এখন এই প্রেম দিবসের উৎস কোথায়? এর আগে কি প্রেম বলে কোন বস্তুই ছিলনা? যতদূর জানি এই প্রেম আদি অকৃত্রিম নিখাদ সোনার মতন। কিন্তু নিখাদ সোনায় যেমন অলঙ্কার তৈরী হয় না, তেমনই প্রেমেও বোধহয় সামান্য হলেও একটু সংশয়, একটু কি হবে কি হবেনা এই চিন্তাটা না থাকলে হয়তো ঠিক দানা বেঁধে ওঠেনা। আমাদের এক মুশকিল আসান দাদা রতুদার শরণাপন্ন হলাম। অকৃতদার হলেও রতুদার কাছে যেন সব সমস্যার সমাধান আছে এমন কি প্যামও ( রতুদা প্রেম বলেনা)। রতুদা নাদুস নুদুস মানুষ বেশ বড় বেলের মতন মাথা, সুতরাং তাঁর মাথা থেকে যে সব সমস্যার সমাধান মিলবে এটা তো অত্যন্ত স্বাভাবিক কথা। রতুদার কাছে এই প্রেম দিবস বা ভ্যালেন্টাইন ডের কথা তুলতেই একগাল হেসে ফুৎকারে এমনভাবে উড়িয়ে দিলেন যে এটা আবার একটা জিজ্ঞেস করার মতন কথা বা বকলমে তাঁর প্রজ্ঞার প্রতি নিতান্তই অবিশ্বাস! বললেন, আরে বাবা প্যাম কি একদিনে হয় রে ভজা? আমি বোকার মতন ফুট কেটে বলে ফেললাম কিন্তু ঐ কি যে একটা গান আছে না, প্রেম একদিন এসেছিল নীরবে আমার এই দুয়ার প্রান্তে। রতুদার ঠাণ্ডা দৃষ্টিতে আমার হাড়ের মধ্যে যেন বরফশীতল হাওয়া বয়ে গেল আর একদম স্পীক টি নট। আরে বাবা শোন, কথার মাঝে ফোড়ন কাটলে কেটে পড় এখান থেকে। রতুদার জ্ঞান গর্ভ বাণী থেকে বঞ্চিত হতে চাইনা, বললাম সরি দাদা, আপনি বলুন। তবে শোন। এই প্যাম আট দিনে পুরোপুরি জমে ওঠে। প্রথম দিন একটা সুন্দর দেখে গোলাপ নিয়ে যদি কোনভাবে দিতে পারলি আর দেখলি যে বেশ খুশী মনেই নিয়েছে, তবেই দ্বিতীয় দিন একটু ইনিয়ে বিনিয়ে হাজার কথা বলার ফাঁকে একটু সুযোগ বুঝে বলবি যে আমি তোমায় ভালবাসি। যদি চোখ কটমটিয়ে চলে না যায় এবং পরেরদিন আসব বলে সম্মতি দেয় তবেই একটা খুব দামী ভাল চকোলেট যেটা ও বেশ পছন্দ করে সেটা ওকে প্রেজেন্ট করবি।
কিন্তু কি করে বুঝব যে কোন চকোলেট ও পছন্দ করে?
একটা আস্ত গাধা তুই। তোর প্যামের দরকার নেই। প্যামের জন্য এলেম দরকার। বাবা,মা যখন দেখে দেবে তখন বিয়ের পিঁড়িতে বসবি অন্যথায় নয়। আচ্ছা বলুন বলুন, তারপর দিন কি করব?
হাঁদুরাম, যদি চকোলেট নিয়ে বেশ খুশীতে ডগমগ হয় তবে কথায় কথায় জানতে চেষ্টা করবি যে কোন সফ্ট টয় পছন্দ করে কিনা। যদি বলে হ্যাঁ, তবে পরদিন একটা খুব ভাল দোকান থেকে একটা ব্র্যান্ডেড টেডি বিয়ার কিনে প্রেজেন্ট করলি। যদি ওটা নিয়ে নেয়, তাহলে পরেরদিন বলবি যে তোমাকে ছাড়া আমি আর বাঁচব না। কিন্তু খুব বুঝে সুঝে কথা বলিস। একটু বেসামাল হলেই কিন্তু সব গুবলেট হয়ে যাবে। অবশ্য কথাবার্তার গতি প্রকৃতি দেখে তুই বুঝতে পারবি যে ঘটনাটা কোন দিকে গড়াচ্ছে। যদি দেখিস যে পরেরদিন না ঘুমানোর জন্য চোখ ফুলোফুলো ,তবে সুযোগ বুঝে একটু শরীরের কাছাকাছি হতে পারিস এবং আলিঙ্গন করলেও করতে পারিস। কিন্তু মনে রাখবি যে এগুলো সব আজকের দিনে ভিন্ন স্টেজের ইন্টারভিউ। জানিস তো আজকাল একটা ইন্টারভিউয়ে কোন চাকরি হয়না। বিভিন্ন রাউন্ডের মাধ্যমে ফাইনাল ইন্টারভিউ হয় এবং তারপর চাকরি। অতএব বাপু, খুব সাবধানে এগোস। যদি এই রাউন্ডে উতরে যাস, তাহলে পরেরদিন একটা কিস করার চেষ্টা করতে পারিস কিন্তু বারবার সাবধান করে দিচ্ছি, যে কোন মুহুর্তে বরফ জমা থেকে গলে জল হবার সম্ভাবনাও কিছু কম নয়। যদি এই সাতদিন ভালভাবে উতরে গেলি তাহলে কোন ভাল রেস্তোরাঁয় পরেরদিন অর্থাত চৌদ্দ ই ফেব্রুয়ারি একটা ক্যাণ্ডেল লাইট ডিনার করবি অর্থাত প্যাম দিবস সম্পূর্ণম। রতুদার উত্তর পেয়ে গেছি । এবার আমার দিক থেকে এক ব্রহ্মাস্ত্র নিক্ষেপ। আচ্ছা রতুদা, প্রেম সম্বন্ধে এত স্বচ্ছ ধারণা সত্ত্বেও আপনার কেন বিয়ে করা হয়ে উঠল না? বলাই বাহুল্য, উত্তরের জন্য অপেক্ষা না করে পড়ি কি মরি দে দৌড়।