নীল দিগন্তে ওই ফুলের আগুন লাগল গানে মনটাও হিন্দোলিত হয়ে ওঠে কিন্তু এবার যেন কোন অজ্ঞাত কারণে মনটা তেমন ভাবে সাড়া দিলনা। হয়তো বা বয়সজনিত কারণ কিংবা কোন নিকট আত্মীয় বা বন্ধুর অসুস্থতার কারণেও হতে পারে। এই সব কারণগুলো তো প্রত্যেক বছর ই কিছু কম বা কিছু বেশী পরিমাণে থাকেই তবে এইবার এরকম কেন মনে হচ্ছে। চিন্তার গভীরে ডুব দিয়ে কারণ অনুসন্ধানে মন দিলাম। হ্যাঁ , পেলাম খুঁজে। হাজার হাজার যোগ্য চাকরিপ্রার্থীরা উপেক্ষিত হয়ে দিনের পর দিন বিভিন্ন জায়গায় অবস্থানরত আর তাদের জায়গায় অযোগ্য প্রার্থীরা টাকার বিনিময়ে রাজনৈতিক নেতাদের হাত ধরে সেইসব জায়গা দখল করে বসে আছে এবং এই অযোগ্য অশিক্ষিতদের হাতে ভবিষ্যত প্রজন্ম কতটা সুরক্ষিত সেটা ভাবার সময় ভীষণ ভাবে এসেছে। প্রত্যেক যুগেই মানে বিভিন্ন সরকারের আমলেই এটা হয়েছে কিন্তু গোটা শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে এই ব্যাপকতা ভবিষ্যত প্রজন্মকে কিভাবে পিছিয়ে দিয়েছে এটা ভাবলেই গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে। মধ্যবিত্ত সংসারে সবার পক্ষে প্রাইভেট স্কুলে পড়ানো সম্ভব নয় কারণ অতিরিক্ত খরচ তাঁদের পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়। কিন্তু এই অসৎ রাজনৈতিক নেতারা তাঁদের ছেলেমেয়েদের ভুলেও এই সরকারী স্কুলে পড়তে পাঠাবেন না। অনেকটা এইরকম কথা," ডু হোয়াট আই সে, ডোন্ট ডু হোয়াট আই ডু।" নেতাদের ছেলেমেয়েরা ভাল স্কুল, ভাল কলেজে পড়ে তাঁদের মতন নেতা হবে আর সাধারণ মানুষের ছেলেমেয়েরা তাঁদের তাঁবেদারি করবে আর এই ব্যবস্থাটাই পাকাপোক্ত করার ভীষণ প্রয়োজন। গোটা শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে এই ঘূণ যাঁরা ধরিয়েছেন তাঁদের কি ধরণের শাস্তি হওয়া উচিত তার প্রতিবিধান করবেন আদালত। সর্বস্তরে এই ব্যাপক দুর্নীতির প্রকোপে মন আজ ভীষণ ভারাক্রান্ত এবং মন আর সায় দিচ্ছেনা গেয়ে উঠতে, " ওরে বকুল পারুল, ওরে শাল পিয়ালের বন, কোনখানে আজ পাই এমন মনের মতো ঠাঁই, যেথায় ফাগুন ভরে দেব দিয়ে সকল মন।"
হে বসন্ত, আমায় মাফ করো, এবারের মতো আমায় রেহাই দাও, আমাকে ঐ যোগ্য চাকরি প্রার্থীদের সমব্যথী হতে দাও। জীবন সায়াহ্নে এসে একবার অন্তত এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ না করে আমায় এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে দাও।
No comments:
Post a Comment