প্রত্যেক জীবজন্তুই কিছু প্রত্যাশা করে, কোন কাজের বিনিময়ে টাকা কিংবা প্রশংসা বা টাকার বিনিময়ে কিছু কাজের বরাত যেটাকে একটু খারাপ ভাবে বললে শোনায় ঘুষ বা ভালভাবে বিচার করলে বলা যায় ভালবাসার বিনিময়ে ভালবাসা বা স্নেহের বিনিময়ে শ্রদ্ধা। যদিও গীতায় লেখা আছে কাজ করে যাও কোন ফলের আশা না করেই। এটা যত সহজে বলা যায় বাস্তবে ততটাই কঠিন। সৎকর্ম করে যদি তার স্বীকৃতি না পাওয়া যায় তাহলে সে কতদিন সেই ধরণের কাজ করবে তাতে যথেষ্ট সন্দেহ আছে। বর্তমান পৃথিবীতে সবাই যখন নিজের লাভের জন্য ছুটছে তখন মুষ্টিমেয় কিছু নির্লোভ লোক তাতে বিরত থাকবে এটা আশা করা একটা বাতুলতা মাত্র। তবুও কিছু লোক নিশ্চয়ই রয়েছেন যাঁরা গীতার বাণী অক্ষরে অক্ষরে পালন করেন এবং হয়তো তাঁদের জন্যই এই কথাটা " কর্মণ্যেবাধিকারস্তে মা ফলেষু কদাচন" এখনও লোকের মুখে শোনা যায়। অনেকেই গীতার বাণী কথায় কথায় উদ্ধৃত করেন কিন্তু ব্যবহারিক জীবনে কতটা মেনে চলেন তাতে ঘোর সন্দেহ আছে। তবু একটা কিছু শক্ত খুঁটি দরকার যাকে কেন্দ্র করে গরু ছাগলরা চরে খেতে পারে কিন্তু বৃত্তের বাইরে যেতে পারেনা। খুঁটি যদি শক্ত না হয় তাহলে চরতে চরতে টানে খুঁটিটাই উপড়ে যাবে এবং সবকিছুই বিশৃঙ্খল হয়ে যাবে। সমুদ্রের ধারে পাহাড়ের গায়ে ঢেউগুলো আছড়ে পড়ে এবং ফিরে আসে দ্বিগুণ শক্তি নিয়ে কিন্তু পাহাড় অটল অবিচল, দাঁড়িয়ে থাকে আর মৃদু মৃদু হাসে। ধর্মগ্রন্থগুলো ও অনেক টা সেই রকম, আমাদের প্রতিনিয়ত মনে করিয়ে দেয় কি করা উচিত আর কি না করা।
আমরা পড়ি এই ধর্মগ্রন্থ কিন্তু কতটা মেনে চলি তা আমাদের আধারের উপর নির্ভর করে। এই আধারটাও তৈরী হয় আমরা কিভাবে মানুষ হচ্ছি তার উপর। যে বাড়ির বড় মানুষদের মূল্যবোধ প্রবল সেখানে ছেলেমেয়েরা ও সেই গুণ সবটা না হলেও কিছুটা আত্মস্থ করে। তবে কি চোরের ছেলে ভাল মানুষ হয়না? নিশ্চয়ই হয় কারণ পাঁকেই পদ্মফুল ফোটে। অনেকেই আছেন যাঁরা কথায় কথায় ধর্মগ্রন্থের বাণী বা শ্লোক উচ্চারণ করেন কিন্তু কার্যক্ষেত্রে তাঁদের আচরণ বিপরীত। তাঁদের জন্য এই কথাটা উপযুক্ত," আমি যা বলছি তাই কর কিন্তু আমি যা করছি তার কোর না।" এঁরা হচ্ছেন ভণ্ড এবং এঁদের আধিক্য ই চতুর্দিকে বিশেষ করে রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে।
কিন্তু তা বলে কি নিঃস্বার্থপর লোকজন নেই? অবশ্যই আছেন যদিও সংখ্যায় ভীষণ কম। এঁদের জন্য সম্মান ছাড়া আর কিছুই নেই কিন্তু এঁরা কে সম্মান দিল বা দিল না তার তোয়াক্কা করেন না এবং নিজেদের কর্মপথে অবিচল থাকেন। আর এঁদের জন্য ই পৃথিবী এখনও সচল। এঁরা অনেকটা সূর্যের মতন। সূর্য যেমন তার প্রভা দিয়ে পৃথিবীর ৮০০ কোটি মানুষের বেঁচে থাকতে সাহায্য করেও বিনিময়ে কিছুই চায়না এঁরা ও সেইরকম কারো কাছে কোন কিছু প্রত্যাশা না করেই নিজেদের কাজ করে যান। ভগবান এঁদের বাঁচিয়ে রাখুন।
No comments:
Post a Comment