নুটু এবং তিতলি দুজনেই বাইরে থাকে এবং বর্তমানে তিতলি প্রাগে পোস্ট ডক্টরেট করতে চলে গেছে এবং নুটু ব্যাঙ্গালোরের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্সে থিসিস জমা দেবার উদ্যোগ করছে। তিতলিরা যমজ বোন এবং ওর চেয়ে কিছু সময়ের বড় তিয়াস তার বন্ধু শতদ্রুকে বিয়ে করে ক্যালিফোর্নিয়ায় গুগলে কর্মরত। তিতলির কিন্তু মনোগত ইচ্ছা কোন ইনস্টিটিউটে পড়ানো এবং একই মনোভাব নুটু বা যৌধেয়র। নুটু টাটা কনসালটেন্সির তিনবছরের চাকরির সম্পর্কে ছেদ ঘটিয়ে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্সে রিসার্চ করতে লেগে গেল এবং সেই কারণেই তার ডক্টরেট করাটাও একটু দেরী হয়ে গেল। কিন্ত জ্ঞান পিপাসা এমনই একটা জিনিস যা মেটাতে মানুষ সহজলভ্য সুখ ছেড়ে অনিশ্চয়তার পিছনে ধাওয়া করে। ঠিক সময় বের করে নুটু ও তিতলির জীবনে স্থায়িত্ব আনাটা একটু গোলমেলে হয়ে যাচ্ছিল কিন্তু ভগবান যখন সহায় হন তখন কোন বাধাই তার গতিরোধ করতে পারেনা। তিয়াস এবং শতদ্রু কাজের ফাঁকে একটা ছোট্ট বিরতি নিয়ে সুদূর আমেরিকা থেকে তিতলির বিয়েতে যোগ দেওয়ার পরদিনই সন্ধের ফ্লাইটে ব্যাক টু আমেরিকা।
আজকের যুগের ছেলেমেয়েদের যতই দেখি ততই আশ্চর্য হয়ে যাই। আমাদের সময় যেন একটা গদাই লস্করি চাল ছিল, হচ্ছে হবে এইরকম ধারণাতেই মন মজে থাকতো কিন্তু এখন এই জেটগতির যুগে এই এখানে, এই সেখানে। কি সুন্দর টাইম ম্যানেজমেন্ট, একেবারে টাইট শিডিউল, কোথাও কোন নড়চড় হবার উপায় নেই। নুটু এসেছে রবিবার, বিয়ে সারলো সোমবার এবং অষ্টমঙ্গলা সেরে শনিবার ফিরে যাবে ব্যাঙ্গালোরে থিসিস জমা দেবার জন্য। তিতলিও কয়েকদিন পরেই চলে যাবে প্রাগে তার ইনস্টিটিউটে যোগ দিতে। এরই মধ্যে সময় করে খুব ঘনিষ্ঠ আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করে যাচ্ছে এবং তাদের আশীর্বাদ পাথেয় করে নিজেদের চলার জীবন মসৃণ করতে।
সোমবার বিয়ের পর্ব মিটেছে যৌথ উদ্যোগে সময়াভাবের জন্য। মঙ্গলবার দুপুরে আরও একদফা আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজন এবং তারপরেই ভাঙা হাটের পালা। তিয়াস ও শতদ্রু পাড়ি দিয়েছে তাদের কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে। বুধবার আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করার পালা। সওয়া ছটা নাগাদ নুটু ও তিতলি নামল ধবধবে একটা সাদা গাড়ি থেকে।তরতর করে উঠে চলে এল প্রাণোচ্ছল এক তরুণ ও তরুণী। এ কুলুকুলু রবে বয়ে যাওয়া নদী নয় এ ঝরঝর করে ঝর্ণার মতো খুবই পরিচ্ছন্ন ও মার্জিত কথাবার্তা। নয় নয় করে কিভাবে ঘন্টা দেড়েক সময় কেটে গেল বুঝতেই পারলাম না। " উঠি এবার " শুনে সচকিত হয়ে উঠলাম। মন চাইছিল ঝর্ণার গান আরও কিছুক্ষণ শোনার কিন্তু উপায় নেই তাদের অনেক কমিটমেন্ট, সুতরাং বাধা দেওয়া যায়না। একরাশ আনন্দের ডালি উজাড় করে দিয়ে রেখে গেল ঝর্ণার অনুরণন।
This comment has been removed by the author.
ReplyDeleteঅসাধারণ, অপূর্ব |
ReplyDelete