চোখ কচলে শব্দের উৎস জানতে বেণু উঠে এদিক ওদিক দেখার চেষ্টা করতে থাকল কিন্তু কিছুই ঠাউরাতে পারল না। চারিদিকে কুয়াশায় মোড়া চাদরে ঢাকা সমস্ত শহর। কুড়ি মিটার দূরে থাকা জিনিসগুলোও অস্পষ্ট, ভাল করে দেখাই যায় না। মোবাইলে টর্চের আলোয় যতটুকু দেখা যায় ততটুকুতে অপসৃয়মান একটা মাঝারি উচ্চতার লোককে দুলে দুলে চলতে দেখে মনে হলো অশোক। মোবাইলে ঘড়িতে নজর পড়ল ভোর সাড়ে পাঁচটা। এই সাতসকালে যখন আমরা কম্বলের তলা থেকে বেরোতে সাতবার ভাবি তখন এই অশোক বা তরুণরা আরও ভোরের ট্রেনে এসে অটো বা পায়ে হেঁটে এসে এই উপনগরীর মানুষের সকালে উঠেই যেন কোন অসুবিধা না হয় সেদিকে খেয়াল রাখে। এরপরেই ওরা আসে বাড়ির জমে থাকা আগের দিনের ময়লা নিতে। ফি শনিবার বা রবিবার সিঁড়ি ধোওয়া। তার সেখানে আমাদের জল দিতে অসুবিধা হবে বলে ছাদের ওপর থাকা জলের ট্যাঙ্ক থেকে পাইপ লাগিয়ে জল নিয়ে সিঁড়ি ধোওয়া এবং সেখানেও আমাদের মনের মতো না হওয়ায় হাজারো তির্যক সমালোচনা। কিন্তু বিনিময়ে আমরা তাদের কতটুকু ফিরিয়ে দিতে পারি?
যৎসামান্য ।
আমাদের মাইনে না বাড়লে বা ডি এ না বাড়ালে আমরা সঙ্ঘবদ্ধ ভাবে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ি কিন্তু এই ধরণের লোকজন যাদের ছাড়া আমাদের পথচলা একদম প্রায় অসম্ভব তাদের কথা মনেই পড়েনা কারণ তাদের গলার স্বর উচ্চকিত হয়না। তাদের কথা দুএকজন সহৃদয় ব্যক্তি ওঠালে বাকিরা হৈ হৈ করে ওঠে।
কেন এই দ্বিচারিতা? আমরা দিনদিন কি এতটাই স্বার্থপর হয়ে যাব? উল্টে তাদের কাজের মানের সমালোচনায় মুখর হয়ে উঠি আমরা। নিজেদের কাজের যে কিরকম গতি প্রকৃতি তা নিয়ে কোনদিন ভাবিও না।
আচ্ছা, হঠাৎ যদি এমন হয় যে ট্রেন ঠিকমতো চলল না বা অশোকরাই মাঝপথে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ল, তাহলে কি হবে? তার জায়গায় অন্য লোক এসে কাজটা বুঝে উঠে করতে করতেই অনেক সময় গড়িয়ে যাবে। ততক্ষণ আমাদের সকালবেলার কাজকর্ম স্থগিত রাখতে পারব কি? আমরা যারা ছাপোষা মানুষ, সাতে পাঁচে থাকিনা, তারাই তখন হয়ে যাই অগ্নিশর্মা। আমরা যারা কথায় কথায় রাজা উজির মারি তাদের বেশির ভাগ লোক ই ওই দুঃসময়ে এগিয়ে আসিনা।
সমালোচনার তীর ছোঁড়ার আগে আমরা কি একটু ঠাণ্ডা মাথায় চিন্তা করতে পারিনা? একটু ভেবে দেখার সময় হয়নি কি?
No comments:
Post a Comment