Saturday, 28 November 2020

" ঘুঘু"

প্রায়ই শোনা যায় এই কথা, ঘুঘু দেখেছ ফাঁদ দেখনি বা তোর ভিটেমাটিতে ঘুঘু চরিয়ে ছাড়ব। আচ্ছা, ঘুঘু কি সত্যিই খুব খারাপ বা অশুভ বা তাকে কি দেখাই যায়না?  
যায় তাকে দেখা মনের ভিতর যেখানে লুকিয়ে আছে অনেক স্মৃতি,গ্রামের গোয়ালবাড়ী, ধানের গোলা যার দেয়ালটা গোবর আর মাটি দিয়ে লেপা ও নিকানো, উপরে খড়ের ছাউনি যার একটু নীচে একটা দরজা যেখান দিয়ে ধান ঢালা হয় গোলার মধ্যে আর  গোলার তলার দিকে একটা ছোট্ট গর্তর মতো রয়েছে যেখান দিয়ে ধান বের করা হয়। এদিক ওদিক ছড়িয়ে থাকা ধান খেতে আসে সেই ধূসর রঙের পায়রার মতো কিছু পাখী যার নাম ঘুঘু। ভোর বেলায় অদ্ভুত সেই মিষ্টি ডাকে ভেঙে যাওয়া ঘুম কচলানো চোখে দেখি সেই ছোট্ট সুন্দর পাখিগুলো খুঁটে খুঁটে খাচ্ছে পড়ে থাকা সেই ধান গুলো। ভাবতে থাকি কেন এদের অশুভ বলে। এরা হয়তো একটু নিরিবিলি পছন্দ করে, পারেনা সহ্য করতে লোকের কোলাহল কিন্তু তাই বলে তাকে অশুভ বলে ছাপমেরে দেওয়া? আমাদের মধ্যেও তো বহু লোক আছে যারা নীরবতা ভালবাসে, দূরে সরিয়ে রাখে নিজেদের , যাঁরা চিন্তার স্রোত বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে অসন্তুষ্ট হন ,তাঁরা কি খারাপ লোক? নিশ্চয়ই না। বরং, তাঁরা অনেকের চেয়ে অনেক বেশী ভাল। ভদ্রবেশী মুখোশ পরা এত শয়তান আমাদের মধ্যে মিশে আছে তাদেরথেকে এঁরা হাজারগুণ ভাল। এঁদের কোন প্রচার নেই বলে সবাই এঁদের খারাপ লোক বলেই মনে করেন কিন্তু সেটা তো সত্যি নয়। ঘুঘুদের অবস্থাও অনেকটা একই রকম। নির্বিবাদী, ভীতু এই পাখিটা লোক দেখলে ভয়েপালায়, জল খেতেও আসে সকলের শেষে পাখীদের জন্য রাখা জলের পাত্রে। গ্রামের বাড়ীতে যখন কেউ থাকেনা তখন শুরু হয় ওদের মুক্ত বিচরণ কারণ ওদের খেলায় আর কেউ বিরক্ত করতে পারবে না আর সেই কারণেই হয়তো লোকে বলে তোর ভিটেমাটিতে ঘুঘু চরিয়ে ছাড়ব। বেচারা ঘুঘু ফাঁকা জায়গায় খেলতে ভালবাসে বলে তারই পিছনে অপবাদের ছাপ।
পায়রার মতো হওয়া সত্ত্বেও পায়রার মতো আদর সে কখনোই পায়না, পায় শুধু লোকের ধিক্কার আর নিন্দার ভাগী হয়। একটু ভালবাসা সেও কি পেতে পারেনা?

No comments:

Post a Comment