প্রত্যেক মানুষ ই জন্মগ্রহণ করে ধীরে ধীরে বড় হয় এবং শৈশব থেকে যৌবন এবং পরে বার্ধক্যের দ্বারে এসে না ফেরার দেশে চলে যায় এবং এই বৃত্ত আবহমান কাল থেকে চলে আসছে এবং এই চলার ও কোন শেষ নেই। ছোটবেলায় পড়েছিলাম,
" জন্মিলে মরিতে হবে, অমর কে কোথা রবে
চিরস্থির কবে নীড় হায়রে জীবন নদে" তখন কিন্তু এত গভীরভাবে চিন্তা করিনি। মাঝের এই কয়েকটা বছর মানে জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত যে যেরকম ভাবে নিজেকে তৈরী করে বা তার আর্থসামাজিক পারিপার্শ্বিক অবস্থা তাকে গড়ে উঠতে সাহায্য করে সে সেইরকম অবস্থায় পৌঁছায় এবং দিনের শেষে ফিরে যায় সে যেখান থেকে এসেছিল সেইখানে। মাঝের এই সময়টাতে কেউ ভাগ্যের সহায়তা পায় আবার কেউ বা দুর্ভাগ্যের সঙ্গে যুদ্ধ করে এগিয়ে যায়। ভাগ্যের সহায়তা পেলে সে আরও একটু ভাল জায়গায় পৌঁছতে পারতো। শৈশবটা যাদের একটু ভাল ভাবে কাটে যৌবনে তারা একটু সুবিধাজনক অবস্থায় থাকে কিন্তু এসত্ত্বেও যদি ভাগ্য তাকে সাহায্য না করে তাহলে জীবন তার বিষময় হয়ে ওঠে। সবাই চায় বিবাহিত জীবন সুখের হোক এবং তার সন্তান তার সংসারের মান মর্যাদা বাড়াক কিন্তু সকলের ভাগ্যে কি সেটা থাকে? কত ভাল মানুষের প্রতিষ্ঠা সত্ত্বেও তার স্ত্রী বা সন্তানের হাতে এতটাই নিগৃহীত হতে হয় যা ভাষায় প্রকাশ করা যায়না। একজন মানুষ যখন তার স্ত্রী বা সন্তানের কাছে ছোট হয়ে যায় তখনই তার হয় মৃত্যু, সে যতই তার শ্বাস প্রশ্বাস চলুক বা অন্যান্য কার্যকলাপ বজায় থাকুক। স্ত্রী এবং সন্তানের হাতে নিগৃহীত ব্যক্তির বেঁচে থাকা মৃত্যুর ই সামিল। পিতৃহত্যা বা প্যাট্রিসাইড বা স্বামীহত্যা বা ম্যাটিরিসাইড পড়েছিলাম স্কুলে থাকাকালীন কিন্তু এই ধরণের ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারিনি কিন্তু জীবন সায়াহ্নে পৌঁছে এইরকম অনেক ঘটনার কথা শুনি তখন অত্যন্ত ব্যথিত হই এবং প্রাণের স্পন্দন থাকলেও তাকে মৃত বলেই মনে করি। কিন্তু যাঁরা এইরকম ঘটনার জন্য দায়ী, তাঁরাও কিন্তু ছাড় পাবেন না, কালের অমোঘ নিয়মে তাঁদেরও এই জনমেই হিসেব মিটিয়ে যেতে হবে। কেবল সময়ের অপেক্ষা। একটু বিবেচকের মতো ব্যবহার কি আশা করা যায় না?
No comments:
Post a Comment