Thursday, 22 June 2023

দামাল টিকটিকি

টিউব লাইটের কাছাকাছি একটা বেশ পেটমোটা টিকটিকি ঘুরঘুর করছে আলোর পাশে আসতে থাকা পোকাগুলোর লোভে। বোঝাই যাচ্ছে যথেষ্ট  পেট ভরেছে অন্তত  পেটের সাইজটা দেখে কিন্তু তবুও  ক্লান্তি নেই সেই নির্লজ্জ টিকটিকিটার। দেখছি আর ভাবছি মানুষের সঙ্গে এদের  খুব বিশেষ  পার্থক্য নেই। মানুষের  যেমন স্বভাব প্রয়োজনের তুলনায়  বেশি জমিয়ে রাখা, এই টিকটিকিটাও  হয়তো আমাদের বাড়িতে থেকে আমাদেরই  স্বভাব  রপ্ত করেছে এবং পরিবারের ই একজন  সদস্য  হয়ে গেছে। কিন্তু বাড়ির  সবাই  এই সহাবস্থানে বিশ্বাসী নয়, তাই একে দেখলেই ঝুলঝাড়ার কথা মনে পড়ে এবং ঐ অস্ত্রে তাকে ভয় দেখিয়ে তাড়ায়। দেখছি আর ভাবছি আমি যতক্ষণ আছি ততক্ষণ  মনের  সুখে যা প্রাণে চায় তাই করে নাও কিন্তু তিনি রান্নাঘর থেকে বেরোলেই তোমার  স্বাধীনভাবে ঘোরাফেরা বন্ধ। হঠাৎ দেখছি ঐ মোটু টিকটিকিটা কাউকে কিছু বলতে চাইছে । ওদের  ভাষা তো আমার জানা নেই কিন্তু  চেষ্টা করছি বোঝার  ওর ভাবভঙ্গী দেখে। বারবার  ঐ লাইটের কাছ থেকে দেওয়ালের তাকের  দিকে আসছে আবার  পরমূহুর্তেই আরও  একটা পোকা দেখে কপাত করে গিলে ফেলছে। এ কি রাক্ষস রে বাবা, এত খেয়েও আশ মিটছে না অনেকটা বিয়েবাড়িতে গিয়ে কিছু লোকের যেমন আকন্ঠ খাওয়া --যেন মনে হয় বাড়িতে গিয়ে আর তিনদিন  কিছু খাবেনা। মানুষের  সঙ্গে এত সাদৃশ্য  ভেবে খুব আশ্চর্য  হচ্ছিলাম। এবার  ওর গতিবিধির  ওপর একটু নজর বাড়ালাম। মাঝখানে খুন্তি নাড়ার আওয়াজ শুনে মনে হলো এবার  ডাক পড়বে খেতে আসার  জন্য। ওই মোটু টা একবার তাকের দিকে এসেই কেন আবার  লাইটের কাছে চলে যাচ্ছে? এবার  চোখ পড়ল তাকে থাকা টাইমপিসটার ওপর। কিরকম  অদ্ভুত লাগছে আজ টাইমপিসটাকে।নিজের  চোখকে কিছুতেই  বিশ্বাস করতে পারছি না। ঘড়ির  বড় কাঁটাটা কেমন যেন  মোটা মোটা লাগছে। বাজছে মাত্র ন'টা দশ, কিন্তু বড় কাঁটাটা এরকম  কেন লাগছে। চোখে কি কম দেখছি? বয়স অবশ্যই  হয়েছে কিন্তু তা বলে এত বিভ্রান্তি?   একনাগাড়ে তাকিয়ে থাকতে থাকতে কখন যে দশটা মিনিট  কেটে গেছে হুঁশ নেই। ন'টা বেজে কুড়ি। আরে ঘড়ির  বড় কাঁটাটা এমন কেন লাগছে? মোবাইলটা নিয়ে এসে একটি ফটো তুললাম।  ইতিমধ্যেই বড় কাঁটাটা আরও একটু যেই না সরেছে অমনি দেখি তিনিও কাঁটাকে ধরতে চেষ্টা করছেন।  ধাঁধায় পড়ে গেলাম। খুব  ভাল  করে লক্ষ্য করতেই  দেখি একটা ছোট্ট  বাচ্চা টিকটিকি  ঐ কাঁটাটাকে ধরার  চেষ্টা করছে। কাঁটাটা যখনই  সরে যাচ্ছে তখনই  সেই বাচ্চা টিকটিকিটা  তাকে ধরার  চেষ্টা করছে এবং এই খেলাতেই মত্ত হয়ে মায়ের  খেতে আসার ডাককে  বারবার  উপেক্ষা করছে এবং মায়ের বিরক্তি উৎপাদন করছে। ভাবলাম নিজেদের  শৈশবের কথা। যখন  খেলায় মত্ত থাকতাম মা বা দিদিরা  যদি  ডাকত তখন  খুব  বিরক্ত  বোধ  করতাম  এবং একান্তই  যখন  খেতে আসতাম  তখনই  খাওয়া শেষে পোঁ করে দৌড়ে আবার  নিজের  খেলার  জায়গায়। এই দামাল  টিকটিকিটাকে  দেখে নিজেদের  শৈশবের কথা মনে পড়ে গেল। পরক্ষণেই আমার  ডাক পড়ল খেতে আসার  জন্য  কিন্তু শৈশবের সেই দুঃসাহস দেখানোর সাধ্য হলো না।

No comments:

Post a Comment