Thursday, 25 June 2026

"যুগে যুগে মেঘনাদ"

অনেক সময়ই দেখা যায় লেখকরা তাঁদের নিজেদের নাম গোপন করে ছদ্মনামে লিখছেন। ব্রিটিশ রাজত্বে না হয় কারণটা বোঝা গেল কারণ সেই সময় যে কোন ব্যক্তি সরকারের বিরুদ্ধে কিছু লিখলেই মাথার উপর খাঁড়া নেমে আসার সম্ভাবনা থাকতো কিন্তু স্বাধীন গণতান্ত্রিক দেশে মতপ্রকাশের অধিকার তো সবার রয়েছে কিন্তু তা সত্ত্বেও লোকের ছদ্মনামে লেখার প্রবণতা কমেনি। সম্ভাব্য একটা কারণ হলেও হতে পারে যে লেখক কোন লেখা লিখে তার প্রতিক্রিয়া বিভিন্ন বর্গের লোকের মনে কি রকম পড়ে সেটা বোঝার চেষ্টা করেন। নাম প্রকাশ হয়ে গেলে পাঠক তার বক্তব্য লেখকের সামনে খোলাখুলি ভাবে প্রকাশ করতে পারবেনা। আরও একটা কারণ হতে পারে যে শাসকের সমালোচনা করলে তাদের পোষা গুণ্ডা বা ঊর্দিপরিহিত সরকারী কর্মচারীদের রক্তচক্ষুর আড়ালে থাকতে পারা। কারণ যাই হোক, ছদ্মনামে বহু প্রথিতযশা লেখক লিখেছেন এবং যথেষ্ট সমাদর ও লাভ করেছেন। কয়েকজন লেখকের নাম মনে পড়ছে এই সময়ে যাঁরা হলেন:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর : ভানুসিংহ 
বনফুল: বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় 
হুতোম পেঁচা: কালীপ্রসন্ন সিংহ 
প্যারীচাঁদ মিত্র: টেকচাঁদ ঠাকুর 
প্রমথ চৌধুরী: বীরবল
রাজশেখর বসু: পরশুরাম 
সমরেশ বসু: কালকূট
সুবোধ ঘোষ: কালপুরুষ 
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: অনিলাদেবী
বিমল ঘোষ: মৌমাছি 
মধুসূদন মজুমদার: দৃষ্টিহীন 
বীরবল: সবুজপত্র 
সুনীল গাঙ্গুলী: নীললোহিত
ধনপতি রাই শ্রীবাস্তব: মুন্সী প্রেমচন্দ।
বিশ্বসাহিত্যের মঞ্চ কাঁপানো লেখক অনেকেই আছেন যেমন 
স্যামুয়েল লংহর্ন ক্লিমেন্স: মার্ক টোয়েন 
এরিক আর্থার ব্লেয়ার: জর্জ অরওয়েল
মেরী অ্যান ইভান্স: জর্জ এলিয়ট 
চার্লস লুডভিজ ডডসন: লুইস ক্যারল
জে কে রাউলিং: রবার্ট গলব্রেথ
আমানতিন অরোর লুইস দু পঁ: জর্জ স্যাণ্ড।
এইরকম বহু লেখক লেখিকা সমস্ত পৃথিবীতে আছেন যাঁদের লেখা বিশ্বসাহিত্যকে  বিভিন্ন সময়ে সমৃদ্ধ করেছে।

লঙ্কেশ্বর  রাবণের জ্যেষ্ঠপুত্র মেঘনাদ  মহাবীর ছিলেন এবং তিনি মেঘের আড়ালে থেকে যুদ্ধ করতে পারতেন। এই মায়াবী যুদ্ধে তাঁর কুশলতার জন্য তিনি স্বয়ং দেবরাজ ইন্দ্রকেও পরাস্ত করেন এবং সেই কারণে তাঁর অপর নাম ছিল ইন্দ্রজিৎ। একবার তো তিনি রাম ও লক্ষণকে নাগপাশে বন্দী করেছিলেন এবং সেই সময় মহাবীর হনুমান সূর্য ওঠার আগে বিশল্যাকরণী না নিয়ে এলে রামায়ণ অন্যভাবে লেখা হতো।
 আগের দিনে যুদ্ধে একটা নির্দিষ্ট  নিয়ম  চালু ছিল। সূর্যোদয়ের পরে শঙ্খনাদ করে যুদ্ধ শুরু  হতো এবং  সূর্যাস্তের পরে তা সেদিনের মতো সমাপ্ত হতো যেটা আজকের  দিনে  একেবারেই  মানা হয়না। রাতের অন্ধকারে বিমান  চুপিসারে এসে বোমা বর্ষণ করে সমস্ত কিছু ওলোট পালোট করে দেবে। এই অগ্রগণ্য লেখকরাও তাঁদের লেখনীর তরবারিতে শান দিয়ে নানান বিষয়ে আলোকপাত করেছেন এবং সমাজকে ঋদ্ধ করেছেন। এঁরাও এক একজন মেঘনাদের সমতুল্য। কোনরকম বিরূপ সমালোচনা এঁদের ব্যাহত করতে পারেনি। আজকের দিনেও অনেক মেঘনাদ আছেন যাঁরা আড়ালে থেকে নিজের পরিচয় গোপন করে সমালোচনার তীর ছোঁড়েন কিন্তু পাল্টা আক্রমণ তাঁদের স্পর্শ করতে পারে না। এঁরাও মেঘনাদের সমতুল।







No comments:

Post a Comment