Friday, 1 March 2024

অজানা পাখী

সকাল সকাল চায়ের কাপে চুমুক দিতেই খস খস শব্দে সেগুন গাছের  দিকে চোখ চলে গেল। আওয়াজের উৎস কোথায় দেখার চেষ্টা করছি কিন্তু বারবারই ভ্রমিত হচ্ছি। কানটা ঠিক আছে তো? হ্যাঁ, ঠিকই  আছে , কিছু একটা যেন এই ডাল থেকে ওই ডালে চলে যাচ্ছে আর ঠিক মতন পছন্দ না হওয়ায় আবার  যেন যাচ্ছে চলে আর এক ডালে। পাশের কাঠ বাদাম গাছের পাতাগুলো সম্পূর্ণ ভাবে ঝরে নতুন কচি পাতা গজিয়ে গেলেও সেগুন গাছের পাতাগুলো এখনও  রয়েছে আধ শুকনো অবস্থায় , অপেক্ষারত ঝরে পড়ার। কেউ হয়তো সেই আধা শুকনো  পাতাগুলো দিয়েই তাদের  ঘর বানাতে চায়।
অন্ধ্রপ্রদেশের প্রত্যন্ত গ্রামে কাজ করার সুবাদে চোখে পড়েছে গরীব মানুষদের ঘরের ছাউনি ফি বছরই বানাতে কারণ প্রত্যেক বছরেই উত্তাল ঝড়ে উড়ে যায় তাদের তালপাতার ছাউনি আর হাজির  হতে হয় মহাজনদের কাছে জোড় হাতে যাদের আছে  সারিসারি তালগাছ আর আছে পাকা বাড়ী ও শয়ে শয়ে একর জমি। এককথায় বলা যায় জমিদার বা পেদ্দা  মনুষ্যম।  কোন  বিপর্যয় হলেই যেমন রাজনৈতিক নেতাদের মুখের হাসিটা চওড়া হয় এখানেও এই পেদ্দা মনুষ্যমদের সেইরকম ই আনন্দে বুক ভরে ওঠে এই দুর্দশাগ্রস্ত মানুষগুলোর  মুখের  দিকে চেয়ে কিন্তু এই শ্বাপদগুলোর চোখে মুখে কৃত্রিম বেদনার ভাব ফোটাতেই  হয়। সবজায়গায় ই এই একই  চিত্র। এদের দুঃখ শুনে এই পেদ্দা মনুষ্যমরা তাদের তালগাছের পাতা কাটতে দেয় কিন্তু বিনিময়ে এদের চাষের  সময় নামমাত্র  মজুরিতে কাজ করতে হয়। উননব্বই সালে তাদের  দেওয়া হতো মাত্র আট আনা  প্রতিদিন  যখন  ঐ গ্রামে চারটাকা  লিটার দুধ পাওয়া যেত। সুতরাং, শোষণটা সহজেই অনুমান করা যায়। যাই হোক, আসা যাক আজকের  পাতার  খসখসানি আওয়াজ অনুসন্ধানে। 
চোখটা এদিকে ওদিকে ঘুরিয়েও কোন  সুরাহা হচ্ছেনা। মোবাইলের  ক্যামেরা অন করেই বসে আছি। হঠাৎই দেখি একটা আধাশুকনো পাতা ছাড়ানোর আলতো এক আওয়াজ। আজ পর্যন্ত আমার  চোখে কোনদিন  এই পাখির  ছবি আসেনি-- না চাক্ষুষ, না কোন ছবি। অবাক হয়ে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে  আছি, ভুলে গেছি ক্যামেরার ক্লিক করতে। গিন্নিকে ফিসফিসিয়ে ডেকে দেখানোর  আগেই তিনি আলতো ভাবে  পাতা ঠোঁটে তুলে নিয়ে চলে গেলেন।  মনটা খারাপ  হয়ে গেল  ঐ অজানা পাখিকে  ক্যামেরা বন্দী না করতে  পারার জন্য। কিন্তু একটা পাতা  দিয়ে তো আর বাসা বাঁধা যাবেনা, আসতেই হবে তাকে। তক্কে তক্কে থাকলাম কাপের  চা শেষ করে। আবার  সেই  খসখসানি আওয়াজ। এবার আর কোন ভুল  নয়। দেখলাম  এক অপূর্ব সুন্দর পাখি। টিয়া পাখির মত সবুজ তার পাখনা কিন্তু  অত উজ্জ্বল  নয় আর চেহারাটা হচ্ছে পায়রার মতো কিন্তু যথেষ্ট বড়। অত বড় পায়রা হয়না, অন্তত আমার  চোখে পড়েনি। গোলাপায়রার ডানার  রঙ খানিকটা সবুজ  হলেও এতটা সবুজ নয়, তাহলে এটা কি ধরণের পাখি, কি তার নাম? যাই  হোক,  এবার  আর কোন ভুল নয়, ক্যামেরাবন্দী করলাম  সেই  অজানা পাখিকে আর  পাঠালাম বার্তা বন্ধুবান্ধবদের যদি কেউ কোন  হদিস  দিতে পারে এর সম্বন্ধে।

No comments:

Post a Comment