তৃষ্ণা সকলের ই পায়, কারো বেশি, কারো কম। কিন্তু এদের তৃষ্ণা না মিটলে স্বাভাবিক ভাবেই এরা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠবে এবং কোন অজানিত কারণেই তারা পথচারীদের আক্রমণ করে এবং অনেক ক্ষেত্রেই তা মৃত্যুর পথে ঠেলে দেয়।
চারিদিকে বড় বড় হাউসিং কমপ্লেক্স গড়ে উঠেছে যার মধ্যে অনেকগুলোই প্রাচীর বিহীন এবং আশেপাশের লোকজন সেই কমপ্লেক্সের মধ্যে দিয়ে শর্টকাটে যাওয়া আসা করে এবং অনেক ক্ষেত্রেই কমপ্লেক্সের বিভিন্ন লোকদের সঙ্গে তাদের বন্ধুত্ব ও নানাবিধ আদানপ্রদান আছে। আবার কোন কোন হাউসিং কমপ্লেক্স পাঁচিল দিয়ে ঘেরা এবং সেখানে ঢোকা বা বেরানো যথেষ্ট নিয়ন্ত্রিত সিকিউরিটি গার্ড থাকার জন্য। সেখানে মেইনটেন্যান্স বাবদ অনেক টাকাই গুণতে হয়। অবশ্য সিকিউরিটি ছাড়াও নানাবিধ সুযোগ সুবিধা সেই কমপ্লেক্সের লোকজন ভোগ করেন। আসল কথা হলো ফেল কড়ি মাখো তেল। সুতরাং যত সুযোগ ভোগ করতে চাও সেইমতো টাকা দাও। আলোর পাশেই যেমন অন্ধকার থাকে এখানে ও তার ব্যতিক্রম নয়। ঘেরাটোপে থাকা লোকদের সেবা করার জন্য অবশ্যই কিছু প্রান্তিক মানুষের দরকার হয় যারা বাড়িতে ফাইফরমাশ খাটে বা রান্নাবান্না করে এবং তারা অবশ্যই আসে সেই ঘেরাটোপের বাইরে থাকা বস্তি থেকে। গোলাপ বাগে গোলাপ তুলতে গেলে কিছু কাঁটা হাতে ফুটতেই পারে। এরা আমাদের জীবনের অঙ্গ, এদের ছাড়া আমরা চলতে অসমর্থ। বস্তিবাসীদের সঙ্গে ঘেরাটোপের বাসিন্দাদের অনেক পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও এরা পরস্পরের পরিপূরক।
ঘেরাটোপ কমপ্লেক্সের মধ্যে সারমেয় বা মার্জারকুল সিকিউরিটির কড়া নজর এড়িয়ে ঢোকে কিনা জানা নেই কিন্তু খোলা হাট হাউসিং কমপ্লেক্সে তাদের খুব একটা না হলেও অবাধ বিচরণ আছে এবং তাদের এই উপস্থিতি এই উপনগরীবাসীর মধ্যে কিছু বিভেদ সঞ্চার করছে। একটু সহনশীলতা দুই পক্ষেরই দেখানো প্রয়োজন। এখন এই খোলামেলা উপনগরীতেও খোলা ড্রেন দেখা যায় না বা টিউবওয়েল গুলো কোথায় অন্তর্হিত হয়েছে। তা এই সারমেয়কুল বা মার্জারকুল তাদের তৃষ্ণা কি করে মেটাবে এটা যদি সবাই একটু সহৃদয়তার সঙ্গে বিবেচনা করেন তাহলে সমস্যার অর্ধেক সমাধান হয়ে যায়। মানুষ খিদের জ্বালায় বা তেষ্টায় পাগল হয়ে যায় তো এই অবলা জীবগুলো তার ব্যতিক্রম কি করে হবে? যাঁরা কষ্ট করে নিজেদের পকেটের পয়সা খরচ করে এই পশুপাখিদের খাওয়াচ্ছেন তাঁদের প্রতি একটু সহমর্মিতা দেখিয়ে এই অবলা জীবগুলোকে একটু বাঁচতে দিন। আবার অপরপক্ষের যুক্তি কেও ফেলে দেওয়ার নয়। রাস্তার কুকুরের কামড়ে মৃত্যুও অনাঙ্কাখিত। আর সবচেয়ে বড় কথা মানুষের জীবনের চেয়ে তো কুকুরের জীবন বেশি মূল্যবান হতে পারেনা। সুতরাং , তাদের যেভাবেই হোক না কেন বর্জন কর ।
কিছুক্ষণ আগেই আকাশ ভাঙা বৃষ্টি থেকে বাঁচতে বয়সের ভারে ন্যুব্জ এক বৃদ্ধ কুকুর যে দৌড়বার ক্ষমতাটা ও হারিয়ে ফেলেছে সে অসহায় দৃষ্টিতে একবার আকাশের দিকে আর একবার ইতিউতি কোথাও ঠাঁই পাওয়া যায় কিনা তা দেখছে কিন্তু সমস্ত গেট বন্ধ আর তার নিজেরও শরীরটাও নীচু করে যে গাড়ির তলে আশ্রয় নেবে তাতেও সে অসমর্থ। এই দৃশ্য দেখেও কি কেউ চুপ করে থাকতে পারে বা কোন গেটের ফাঁক দিয়ে যদি সে ঢুকে পড়ে একটু শরীরটাকে বৃষ্টি থেকে বাঁচাতে, তাহলে কি তাকে হ্যাট হ্যাট করে তাড়িয়ে দেওয়া যায়? এদের নাই তো কোন ডানা ,কেমন করে উড়বে সেতো মেলে যে তার পাখনা? অতএব, তার ভেজা ছাড়া যে উপায় নেই।
একটু ভাবতে সবাইকে অনুরোধ জানাই।
No comments:
Post a Comment