Sunday, 13 March 2022

মেলি নয়ন সুদূর পানে

কেমন করে যে বয়ে গেল  যৌবনের  ঝলমলে দিনগুলো নিজেরই অজান্তে নিজেই জানিনা। দেশের  একপ্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে চললাম ছুটে কাজের তাগিদে, সামনে ঝুলছে প্রমোশনের ললিপপ; অতএব ছোট তার পিছনে, সমস্ত ব্যক্তিগত এবং সংসারের সুখ স্বাচ্ছন্দ্য  বিসর্জন  দিয়ে, পৌঁছাতেই হবে সেই সোপানে। আমরা সবাই  পিরামিডের শীর্ষ বিন্দুতে পৌঁছাতে চেষ্টা করি কিন্তু নিজের নিজের সামর্থ্য ও চেষ্টা অনুযায়ী বিভিন্ন স্তরে আটকে যাই । এটাই স্বাভাবিক।  যে যত পরিশ্রম করবে সে ততটাই  উঁচুতে উঠবে অবশ্য  ভাগ্যের  কিছুটা সহায়তা থাকা চাই। বহুসময় এমনও দেখা যায় যে দুজনেই তুল্যমূল্য  কিন্তু একজনের  ভাগ্য সহায়ক হওয়ায় সে পরের স্তরে পৌঁছে গেল এবং অন্যজন তার পূর্বতন জায়গায়ই থেকে গেল। আবার  এমনও হয় যে একটা গাড়ি একটা সিগন্যালে  এগিয়ে গিয়েও পরের সিগন্যালে  আটকে গেল। এটা হামেশাই  হয় এবং ভবিষ্যতেও হবে। কখন বেলা গড়িয়ে সন্ধ্যা হয়ে এল খেয়ালই নেই, একদিন  একটা সীল করা খামে সেবা নিবৃত্ত হবার পরোয়ানা এসে গেল এবং ঝুলন্ত ললিপপটা চোখের  সামনে থেকে অদৃশ্য  হয়ে গেল। মাসের শেষ দিনে একটা বিশেষ  সভায় হঠাৎই হয়ে গেলাম  বিশেষ অতিথি এবং সেদিনের  সভার কেন্দ্রীয় আকর্ষণ। বেশিরভাগ লোকই সেদিন প্রশংসার বানে ভাসিয়ে দিল আবার  পিছনে কেউ কেউ  চাপা গলায় বলল,"যাক বাবা,বাঁচা গেছে, আপদ বিদায় হয়েছে।" এটাই স্বাভাবিক।  কোন লোকই  সবাইকে খুশী করতে পারেনা আর সবাইকে খুশী করতে গেলে তাকে নিজেকেই  অসুখী হতে হবে। যাই হোক,  একটা চলন্ত গাড়ি হঠাৎই  ঘ্যাঁচ করে ব্রেক কষায় থেমে গেল। যে মানুষটা গতকাল  অবধি ঘুম থেকে উঠেই প্রাতঃকৃত্য সেরে স্নান করে অফিস  যাবার  তোড়জোর করতো, আজও অভ্যেস বশত তাই করল কিন্তু আজ ড্রাইভার  এলনা  ব্রীফকেস নিয়ে যেতে, কেমন যেন অজানা অচেনা হয়ে গেল সবার কাছে,  হয়ে গেল  অপাংক্তেয়। সময়ই সময় এখন কিন্তু কি করে যে সময়টা কাটাবে তার কোন  ব্যাখ্যা নেই তার কাছে। যারা আগে থাকতেই  নিজেদের  রিটায়ারমেন্ট  প্ল্যানিং করে রাখে তারা কিছুদিন পরেই নতুন জায়গায় খাপ খাওয়ানোর কথা ভাবতে থাকে আর যারা এটা করতে অপারগ বা রিটায়ারমেন্টের পরে অপ্রয়োজনীয় তাদের হয় মুস্কিল। নতুন বন্ধুর খোঁজে তাদের  থাকতে হয়। ভাগ্য ভাল হলে মনের মতো বন্ধু মেলে আর তা নাহলেই প্রয়োজনের বন্ধুর খোঁজ করতে হয় । বেশিরভাগ  ক্ষেত্রেই  এই প্রয়োজনের বন্ধু মেলে , প্রয়োজন শেষ তো বন্ধুত্বও  শেষ। প্রকৃত বন্ধুর দেখা মেলাই ভার। তাহলে জীবনের  বাকি কটা দিন  কিভাবে কাটবে? যদি আত্মীয়স্বজন কাছাকাছি থাকে এবং তাদের  সঙ্গে সুসম্পর্ক  থাকে তবে তাদের নিয়ে একসঙ্গে ছোটখাট কোন ট্যুর করা যেতে পারে এবং এতেও মোটামুটি দুচার দিন বাইরে ঘুরে এলেও কিছু বিশুদ্ধ  বাতাসে শরীর ও মন চাঙ্গা হয়ে যাবে। তবে এই আত্মীয়স্বজনের  সঙ্গে সম্পর্ক তো একদিনেই  গড়ে ওঠেনা,  এরজন্য দরকার  দীর্ঘদিনের  নিরলস প্রচেষ্টা। এটা না থাকলে হঠাৎ কাউকে যেতে বললেই  সে যেতে রাজি  হবে এটা আশা করাই বাতুলতা।

ভগবানের  আশীর্বাদে আমাদের আত্মীয়স্বজনের  সঙ্গে মোটামুটি ভাল  সম্পর্ক  থাকার  সুবাদে মাঝে মাঝেই নির্মল বাতাসের  সন্ধানে আমরা বেরিয়ে পড়ি। মাঝে দুটো বছর আপদ করোনার  উৎপাতে এটা যথেষ্ট  ব্যাহত হয়েছে, শুধু আমাদেরই  নয় ,সবাইকে ব্যতিব্যস্ত করে ছেড়েছে। হাঁফ ছেড়ে বাঁচতে কোথাও  যাওয়ার  ভীষণ  প্রয়োজন।  গোদের উপর বিষফোড়ার মতন আবার  বহুদিনের  হাঁটুর ব্যথাকে বিদায় জানাতে হাঁটু প্রতিস্থাপন  করতে হয়েছে। সুতরাং শারীরিক  ও মানসিক ভাবে প্রায় বিপর্যস্ত  অবস্থা। যাই হোক, সবার সঙ্গে আলাপ আলোচনার পর ঠিক  হলো ঘাটশিলা যাওয়া হবে। সেখানে প্রখ্যাত  লেখক বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়ের স্মৃতিবিজড়িত কিছু ঘটনার  সঙ্গে পরিচিত  হওয়া এবং সুবর্ণরেখার  ধারে কিছু সময় কাটানোর এক প্রলুব্ধ হাতছানি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হাসপাতালের লাউঞ্জে বসে ডাক্তার বাবুর জন্য  অপেক্ষারত সময়ে যোগাযোগ করলাম  ওখানকার  এক হোটেলের সঙ্গে। ম্যানেজারের  সপ্রতিভ জবাবে খুবই  খুশি হয়ে জানুয়ারির  তেইশ এবং চব্বিশ  তারিখে কুড়ি জনের জন্য  দশটা ঘর বুক করা হলো শহর থেকে একটু দূরে। কিন্তু একটা মুশকিল  হলো যে একতলা, দোতলা এবং তিনতলায় মিলে দশটা ঘর হলো এবং খাওয়া দাওয়ার  ব্যবস্থা তারাই করবে জানালো। কিন্তু আবার  সেই করোনা নামক দৈত্যর তৃতীয় ঢেউ এসে পড়ায় সমস্ত  উৎসাহে আবার  জল পড়ে গেল। এর মধ্যে একজন  আসবে বম্বে থেকে, সুতরাং তার আসার  পরেই দিন স্থির করতে হবে এবং মার্চ মাসের  নয় তারিখ  সকাল বেলায় যাত্রা করে এগার তারিখ  সন্ধেবেলায় ফিরে আসা। বাস ঠিক  করা হলো এবং সাড়ে পাঁচটায় যাত্রা শুরু করে সবাইকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে পৌঁছতে পৌঁছতে বেলা দুটো বেজে গেল। ইতিমধ্যে এক বিপত্তি ঘটেছে। যে হোটেল  প্রথমে বুক করা হয়েছিল এবং পরে বহুচেষ্টায় তারিখ  বদলানো  হয়েছিল  তারা জানালো  যে তাদের  পক্ষে খাওয়ার ব্যবস্থা করা সম্ভব  নয়। এক ভীষণ সমস্যার মুখোমুখি হলাম।  আমাদের  সবাই সিনিয়র  সিটিজেন, কেউ কেউ সুপার ডুপার সিনিয়র  সিটিজেন।  এদের  খাওয়ার ব্যবস্থা না করলে সেখানে যাওয়াই বৃথা। অতএব শুরু হলো অন্য হোটেলের  খোঁজ।  ভগবান  সহায় হলে সব কিছুই সম্ভব। বিভূতিভূষণের বাড়ির  কাছেই  এক হোটেলের  খোঁজ  পাওয়া গেল, নাম তার হোটেল বিভূতি বিহার। এই হোটেলের  ম্যানেজার  ওমপ্রকাশ জী অত্যন্ত  ভদ্রলোক।  তিনি আমাদের  সবার  জন্য  একতলায় ব্যবস্থা করে দিলেন।  আগেভাগে বলে দেওয়ায় খাওয়ার  কোন কষ্টই হলোনা। বিকেল  বেলায় বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়ের  বাড়ি দেখা হলো। বাড়ির কম্পাউন্ডেই  একটা বাংলা মাধ্যমের  স্কুল চালান স্থানীয় কিছু বাংলাপ্রেমী ভদ্রলোক কোনরকম  সরকারি অনুদান  ছাড়াই।  তাঁদের  নিরলস প্রচেষ্টা এবং আমাদের  মতন কিছু বেড়াতে আসা লোকজনদের  সহায়তায় স্কুলটি চলে এবং কিছু সাংস্কৃতিক  অনুষ্ঠান ও করে তারা। যাই হোক কিছু টুকরো টুকরো স্মৃতি সঞ্চয় করে  সুবর্ণরেখার তীরে সূর্যাস্তের দৃশ্য উপভোগ করার জন্য রওনা দিলাম। মাঝপথে হিন্দুস্থান কপারের কারখানাকে রেখে ফিরে আসতে আমাদের দেরী হয়ে যাওয়ার জন্য মাঝপথেই দিনকর সেদিনের  মতো আমাদের কাছ থেকে বিদায় নিলেন। অতএব,  হোটেলেই ফিরে আসা এবং বিশ্রাম  নেওয়া। অনেকটা জায়গা জুড়ে হোটেলের অবস্থান  এবং নানা ফুলের  সমাহারে এক অপূর্ব সুন্দর দোতলা হোটেল। দশ তারিখ  ভোরবেলায় উঠে স্নান করে জায়গার  চারপাশ  ঘুরছি এবং কোনও  জায়গায় চা পাওয়া যায় কিনা তার খোঁজ করছি কিন্তু না, আশে পাশে কোন চায়ের দোকান  নজরে  এলনা। হঠাত,  দূরে দেখি একটা দাড়িওয়ালা লোক বাবা জী হোটেলের  সামনে ঝাঁট দিচ্ছে। ওকে জিজ্ঞেস  করলাম  কখন খুলবে এই হোটেল? ও জানালো যে একটু পরে আসবে মালিক। আমি এধার ওধার ঘুরে চা না পেয়ে ভগ্নমনোরথ হয়ে যখন  ফিরছি তখন দেখি দাড়িওয়ালা বাবাজীর ঝাঁট দেওয়া শেষ।  এখনও  আসেনি লোক জিজ্ঞেস করায় সে হোটেল সংলগ্ন  একটা বাড়ি থেকে একজন মহিলাকে ডেকে আনল। আমি জিজ্ঞেস করলাম  বহেনজী, অভি চায়ে  মিল সকতা হায়? হাঁ, বাবুজী  অভি বনা কে দে রহা হুঁ। তুলসী পাতা দিয়ে খাঁটি দুধের  চায়ে  হাল্কা মিষ্টি দিয়ে যে চা খেলাম,  এককথায় অপূর্ব।  ওখানে আসা দুটো দেহাতি ছেলে, দাড়িওয়ালা বাবাজী এবং কুনি দেবী( হোটেলের  মালকিন) এবং আমার  দুকাপ চায়ের  দাম ষাট টাকা মিটিয়ে ফিরে এলাম।  বাড়তি  প্রাপ্তির  মধ্যে কুনি দেবীর ঘরে ভাজা একমুঠো মুড়ি সম্পূর্ণ আলাদা স্বাদের। সন্ধেবেলায় তাঁকে বলে রাখা কুড়িজনের  জন্য  চা হয়ে গেল ত্রিশটা,  এতই ভাল  লেগেছে সকলের। 

পরের দিন অর্থাৎ দশ তারিখ সকাল বেলায় ব্রেকফাস্ট করেই বেরিয়ে পড়লাম  গালুডি ড্যামের  দিকে। শীর্ণকায় নদীর কঙ্কালসার ফল্গুধারায় উজ্জীবিত  হয়নি বাঁধের ধরে রাখা জল, সুতরাং একটু হতাশই হতে হলো কিন্তু বর্ষার  আগমনে এই বাঁধই জলে টইটম্বুর হয়ে ওঠে এবং বিস্তীর্ণ এলাকার চাষে হাত বাড়িয়ে দেয়। খানিকক্ষণ  থেকে রওনা দেওয়া হলো যাদুগুড়ায় রঙ্কিনী দেবীর  মন্দিরের  উদ্দেশ্যে। যাদুগুড়া বিখ্যাত তার ইউরেনিয়াম ভান্ডারের  জন্য। সুতরাং ভারত সরকারের  কড়া নজরদারিই  স্বাভাবিক।  যাই  হোক,  তাকে পেরিয়ে রঙ্কিনী দেবীর  মন্দির  পৌঁছলাম।  মায়ের  মন্দিরে দূরদূরান্ত থেকে বহু লোক পূজো দিতে আসা মনস্কামনা পূরণের জন্য। একটা জিনিস  চোখে  পড়ল যে পুণ্যার্থীরা সবাই খুব  সুশৃঙ্খলভাবে পূজো দিচ্ছেন  যা সাধারণত অন্যান্য  মন্দিরে সচরাচর  চোখে পড়েনা। এরপর যাত্রা শুরু হলো নয়নাভিরাম  বুরুডি ড্যামের দিকে। এটা গালুডির মতো আধুনিকা নয় বরং বেশ পৃথুলা। সুতরাং এক বিস্তীর্ণ  সুগভীর জলরাশি মনকে বেশ টানে। ওখানে নৌকাবিহারের ব্যবস্থা ছিল  কিন্তু সময় হাতে না থাকায় এবং এত সুপার সিনিয়র সিটিজেনদের  নিয়ে তা অসমাপ্ত রেখেই  চলে আসতে হলো। ওখান থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে পাহাড়ের  টিলায় থাকা ঝর্ণা ধারা না দেখেই চলে আসতে  হলো। আসলে আমাদের  একটা ভুল  হয়েছিল কোন গাইড না নেওয়ায় আর আমাদের  ড্রাইভার ও ছিল  আনকোড়া। হোটেলে ফিরে এসে খাওয়ার পর একটু  ছোট্ট  ভাতঘুম দিয়ে বেরিয়ে পড়লাম রামকৃষ্ণ মিশনের  উদ্দেশ্যে। সান্ধ্য আরতির এক বিশেষ  আকর্ষণ  এই রামকৃষ্ণ মিশন।  হোটেলে ফিরে আমাদের  সদা যুবতী তিরানব্বই বছরের  মাসিমা চল্লিশ পঞ্চাশের আধুনিকাদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নাচে গানে মেতে উঠলেন যা সব পাওয়াকেই  ছাড়িয়ে গেল। পরের দিন এগার  তারিখ  ফেরার পালা। ব্রেকফাস্ট সেরে চল ফিরে নিজ নিজ ডেরায়,  মাঝখানে কোলাঘাটে শের ই পাঞ্জাবে অবশ্যই মধ্যাহ্নভোজন সেরে।

Saturday, 26 February 2022

সাঁঝ বসন্ত

হে বিটপী, ত্যজিয়া পুরাতনে
বরণ করেছ সতেজ নবীনে
উঠেছ সাজিয়া নব কলেবরে
ভেবেছ  কি কভু সেই পাখিদের 
ছিল যারা তব পুরাতন আশ্রয়ে
হইবে কি দশা ঘর ছাড়া হয়ে 
সাধ্য কি আছে সতেজ নবীনে
বিতাড়িত  করি শঙ্কা? বলিতে পারিতে 
হে পুরাতন, রহো না বক্ষে আরও  কিছুক্ষণ 
ফিরিত  আস্থা শঙ্কিত পাখিদের। 

Sunday, 13 February 2022

গল্প হলেও সত্যি

কোন কোন সময় যখন  শুনি যে এক অত্যন্ত  দরিদ্র পরিবারের থেকে একটা ছেলে বা মেয়ে ধনুকের ছিলা থেকে বেরিয়ে আপন গতিতে এগিয়ে চলেছে তখন মনে হয় আমি কি স্বপ্ন দেখছি না জেগে আছি। নিজের গায়ে চিমটি কেটে অনুভব করতে চেষ্টা করি যে এ কি গল্প না সত্যি। 

গতকাল  এক বন্ধুর বাড়ি থেকে ফেরার  সময় এইরকম  এক ঘটনার  মুখোমুখি হ'লাম। ওখান থেকে ফেরার  উপায় হয় নিজের গাড়ি নিয়ে যাও না হলে বেশ খানিকটা দূর হেঁটে এসে অটোতে চড়ে মেন রোডে এসে ট্যাক্সি নাও কিংবা ভাগ্য ভাল  থাকলে ট্যাক্সি পাওয়া গেলে সরাসরি বাড়ি ফিরে এস আর একান্তই  কিছু না থাকলে উবের নিয়ে চলে এস। কিন্তু এত নানান দিকে রাস্তা আর খোঁড়াখুঁড়ির দৌলতে উবের  পেলেও তাকে যথাযথ ডিরেক্শন  দিয়ে নিয়ে আসা বন্ধুর সাহায্য  ছাড়া  সম্ভবই  নয়। যাই হোক,  শেষ পন্থাই নিতে হ'ল অর্থাৎ বন্ধুর সাহায্য  নিয়ে উবেরে চলে আসা।

অনেক ঘোরাঘুরি করে ভদ্রলোক অনেকবার  টেলিফোন  করে এসে উপস্থিত  হলেন। এসেই হাঁফ ছেড়ে বললেন, " বাপরে, ফর্টিস হাসপাতাল  থেকে হাঁটু অপারেশন করা এক রোগীকে এখানেই  ছাড়তে এসে আমারও  অপারেশন করা স্পাইন্যাল কর্ডের ব্যথাটা চাগিয়ে উঠল।" আঁতকে উঠে আমার  গলা থেকে " অ্যাঁ" শব্দটা বেরিয়ে এল। 
স্যার,  আপনার  কি লাগল? 
না, না, না। ভাগ্যচক্রে আপনি এক হাঁটু অপারেশন করা রোগীকে নিয়ে এসে আবারও এক হাঁটু অপারেশন করা রোগীকে নিয়ে যাচ্ছেন। ধীরে ধীরে গল্পটা জমে উঠল রাস্তা সরু হওয়ার জন্য এবং গাড়ি নিয়ে তাড়াতাড়ি না যেতে পারার জন্য। করোনার  দৌলতে বাড়ির বাইরে না যেতে পারার জন্য একটু কথা বলার জন্য  ভিতরটা  হাঁকপাঁক  করে। সুতরাং যে কোন  লোক পেলেই তার সঙ্গে কথা বলতে ইচ্ছা করে এবং তার হাঁড়ির খবর জানতে ইচ্ছে করে। কথায় কথায় জানলাম  যে সদানন্দ বাবুর( উবর ড্রাইভারের  নাম সদানন্দ সরকার) স্পাইন্যাল কর্ডের অপারেশন  হয়েছে এবং কোনরকম পয়সা খরচ না করেই। একটু  বিস্মিত  হয়েই জিজ্ঞেস  করলাম,  কোথায়, কোন সহৃদয়  ডাক্তারের সহায়তায়?  তার  উত্তরে তিনি জানালেন  যে সরকারি হাসপাতাল  পি জি হাসপাতালে ডাক্তার  অমিতাভ  চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে একদম নিখরচায়। সঙ্গে সঙ্গে বহু সমালোচিত মুখ্যমন্ত্রীর প্রশংসাও করলেন। শুনে মনটা একটু আশ্বস্ত  হ'ল যে পি জি হাসপাতালে শুধু বদমাস  দুর্নীতিবাজ নেতাদের  পুলিশের  হাত থেকে বাঁচার জন্যই নয়, সাধারণ  লোকেরও কিছু চিকিৎসা হয়। এটাই তো হওয়ার  কথা,  কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত এটা দালালদের মাধ্যমে এখন রাজনৈতিক  দাদাদের কব্জায় চলে গেছে । কথায় কথায় জানলাম যে তাঁর একটা স্টেন্ট ও বসেছে নিখরচায়। ঔৎসুক্য না চেপে জিজ্ঞেস  করেই বসলাম যে পি জি হাসপাতালে দু দুবার  বিনা খরচে চিকিৎসা করালেন , কোন নেতাকে ধরে ? উনি তো পরিষ্কার  জানালেন  যে কোন নেতাকে না ধরেই আউটডোরে দেখিয়ে তাঁর চিকিৎসার  ব্যবস্থা হয়েছে যদিও  এখনও  আমার  সন্দেহটা এখনও  যায়নি। আবার  জিজ্ঞেস করলাম যে স্পাইন্যাল কর্ডের  অপারেশনের  পরে গাড়ি চালাচ্ছেন,  কোন অসুবিধা হচ্ছে না? উনি বললেন,  গাড়ি না চালালে সংসার  কি করে চালাবেন। বাড়িতে কে কে আছেন  জিজ্ঞেস করায় উনি জানালেন  যে তাঁরা স্বামী , স্ত্রী এবং তাঁদের একমাত্র  ছেলে।
" ছেলে কি করে?"
উত্তর  শুনে মাথা একদম ঘুরে গেল। ছেলে অ্যাস্ট্রোফিজিক্সে এম এস সি করে পি এইচ ডি করছে। নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের ছাত্র সৌহার্দ্য,  সদানন্দ  সরকারের  একমাত্র  সন্তান, ডক্টরেট  করে তার  বাবাকে গাড়ি চালানো থেকে বিরত করবে এই প্রার্থনাই  ভগবানের  কাছে করি। আরও  অনেক  সৌহার্দ্যর সমাহার আমাদের দেশে আসুক এবং দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাক এই আশা নিয়েই  বেঁচে থাকি।

Friday, 31 December 2021

নববর্ষ

বিষে বিষময় দুহাজার বিশ
মারণ গরল আনিল  একুশ 
তবুও আশায় থাকি অহর্নিশ 
আসিবে মঙ্গলদায়ী দুহাজার বাইশ

নতুন বছরের অনেক অনেক শুভেচ্ছা রইল। 

এযুগের দধীচি

পুরাণে মহর্ষি  দধীচির সম্বন্ধে জানেনা এমন লোকের  সংখ্যা খুবই  কম। যারা একদম নিতান্তই কোন  খবর  রাখেন না তারা ব্যতীত প্রায় সমস্ত লোকই মহর্ষি  দধীচির আত্মত্যাগের কথা জানেন। তিনি তাঁর  প্রাণ ত্যাগ  করেছিলেন দেবতাদের অসুরদের বিরুদ্ধে জয়লাভ  করার জন্য। 
দেবরাজ  ইন্দ্র তাঁর সহযোগী অন্য দেবতারা স্বর্গ থেকে প্রায় বিতাড়িত  অসুরদের দ্বারা। অসুরদের  দলপতি বৃত্রা শিবের আশীর্বাদে প্রায় অমরত্ব লাভ করেছিলেন। তাকে কোন  অস্ত্রের দ্বারা বধ করা যাবেনা। তাহলে তাকে হারাবে কে? আর সঙ্গে সঙ্গে দেবরাজ  ইন্দ্রকেও  তাঁর  চ্যালা চামুন্ডা সমেত  স্বর্গ থেকে চাটি বাটি গোটাতে  হবে। স্বয়ং রাজা ইন্দ্র মুখ কালো করে ভগবান  বিষ্ণুর শরণাপন্ন  হলেন। রাজনীতি তখনও  ছিল  এখনকার  মতো। রাশিয়া বা আমেরিকা এখন যেমন একবার  ভারতের  গালে আর একবার  পাকিস্তানের গালে চুমু খায়, তখনও  ভগবান  বিষ্ণু এবং মহেশ্বর  আমেরিকা রাশিয়ার  রোল প্লে করতো। স্বয়ং ভোলানাথ অল্পেই  তুষ্ট হন এবং বেশি কূটকচালির মধ্যে না গিয়ে খুব বেশি না ভেবেই চাওয়া এমন একটা বরকে  তথাস্তু বলে বসতেন যে তাকে সামলাতে অন্যদের  দফারফা। রাশিয়া যদি প্যালেস্টাইনকে  সমর্থন  করে তবে আমেরিকাকে ইস্রায়েলের  সমর্থনে নামতেই  হয়। সুতরাং স্বয়ং বিষ্ণু যে দেবরাজ  ইন্দ্রকে বুদ্ধি দেবেন  এতে আর আশ্চর্য  কি আছে। তিনি দেবরাজ  ইন্দ্রকে বললেন যে যাও মহর্ষি দধীচির কাছে এবং তাঁর কাছে তাঁর  অস্থি র প্রার্থনা কর। স্বর্গের  এইসব ব্যাপার স্যাপার  বড্ড গোলমেলে। দেবরাজ  ইন্দ্র, তুমি রাজা। দেবতাদের  দেখভাল  করা  তো তোমার  কাজ। কেমন তোমার  কূটনীতি হে? তুমি তো ঠিকমতো  সামলাতেই  পারনি।  তুমি থাকতে কেমন করে অসুর বাবাজী স্বয়ং মহেশ্বরের কাছ থেকে বর নিয়ে চলে গেল আর তুমি কি তখন  আঙুল  চুষছিলে? আরও  একটা জিনিস  কিছুতেই  বোধগম্য  হয়না। রাজ্যপাট  তোমার,  সামলাবে তুমি। কথায় কথায় তোমাকে দাদা ধরতে হবে কেন শুনি? অনেক  ভাবনা চিন্তার  পর একটা মিল এখনকার  রাজনীতির  সঙ্গে মিল খুঁজে পেলাম। সংবিধান  অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর সর্বময়  ক্ষমতা কিন্তু কোথা থেকে তাঁর মাথার উপর উড়ে এসে জুড়ে বসল ন্যাশনাল অ্যাডভাইসরি কাউন্সিল যার মতামত ছাড়া পাতাও  হেলবে না। অতএব যা হবার  তাই  হলো। দেবরাজ  ইন্দ্রর ক্ষেত্রেও  তার কোন  ব্যতিক্রম  নয়। সুতরাং  আমেরিকান বিষ্ণুর কথামতন  মহর্ষি দধীচির  কাছে যাওয়া এবং আবদার  ধরা, ঋষিবর, " আপনি প্রাণ ত্যাগ  করুন  এবং আপনার  অস্থি দিয়ে আমি অস্ত্র বানাবো এবং সেই  অস্ত্রে  আমি বৃত্রাসুরকে বধ করে স্বর্গ  উদ্ধার  করব।" মহর্ষি জ্ঞানী পুরুষ , উনি দেবরাজ ইন্দ্রর আগমনের  কারণ জানেন এবং একটা শর্ত  আরোপ করলেন। তিনি বললেন যে সমস্ত নদীতে অবগাহন করার পর তিনি প্রাণ ত্যাগ  করবেন। কিন্তু ইন্দ্রর আর তর সইছে  না অথচ মহর্ষিকে হত্যাও  করতে পারছেন  না। আর ঐদিকে  ঊর্বশী,  মেনকাদের  নৃত্য গীত  কতদিন  শোনা হয়নি আর সেই জায়গায় অসুররা আহ্লাদিত  হচ্ছে তাদের  নৃত্য গীতে,  এটা ভেবেই  দেবরাজের মন খুব খারাপ  হয়ে গেল। তিনি তখন  সমস্ত নদীর  জল একত্রিত  করে সেইখানে নিয়ে এলেন  এবং মহর্ষিকে বললেন, " এইখানেই  সব নদীর  জল আছে যেটা  যোগবলে আপনি জেনে নিতে পারেন  যে সব ঠিক ঠাক আছে কিনা।" এখনকার  যেমন অডিটরের  সামনে  সমস্ত বই খাতা ফেলে দিয়ে বলা হয় দেখে নিন স্যার একবার  চোখ বুলিয়ে আর চট করে সই করে স্ট্যাম্প লাগিয়ে দিন। আমাকে আর বলতে হবেনা বাপধন,  আমি বুঝেছি তোমার  যথেষ্ট  তাড়া। মুনিবর তাঁর  
কথামতন সেই জলে অবগাহন  করে স্বেচ্ছায় প্রাণ ত্যাগ করে দেবরাজ  ইন্দ্রকে ব্রহ্মহত্যা থেকে নিষ্কৃতি দিলেন। আহ্লাদে আটখানা দেবরাজ  ইন্দ্র তাঁর  অস্থি নিয়ে সঁপে দিলেন  বিশ্বকর্মার  হাতে এবং তিনি মহর্ষির মেরুদন্ড  দিয়ে বানালেন বজ্র এবং সেই বজ্রাঘাতে  নিধন হলো বৃত্রাসুর এবং দেবতারাও  ফিরে পেলেন  তাঁদের মনসবদারি। আর বেশ  লোকদেখানি শান্তি স্থাপন হলো ভগবান  বিষ্ণুর মহেশ্বরের  সঙ্গে। ব্রিটেন আমেরিকা ও রাশিয়া যেন ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বরের  পুনর্মিলন  হলো।

এ তো গেল সেই পুরানের কচকচানি। এবার  আসা যাক আজকের  দধীচির  কথায়। স্বার্থ ত্যাগের  মহান আদর্শ  মহর্ষি দধীচির।  অনেকটা আমাদের  পরমবীর চক্রের  মতন।  আমেরিকা বা রাশিয়া কেউ প্যাটন ট্যাঙ্ক  বা স্যাবার জেট বা এফ সিক্সটিন  বা মিগ  বিক্রি করে যুদ্ধ করতে সাহায্য  করে কিন্তু সেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর  আর কেউ নিজে মাঠে ময়দানে নেমে যুদ্ধ  করতে এগিয়ে আসেনি। তোমরা আমাদের  অস্ত্র কেনো, যুদ্ধ  কর। ফেল কড়ি,  মাখ তেল। তোমরা যত যুদ্ধ  করবে কর, অস্ত্র চাই কেনো আর আমাদের  অর্থভাণ্ডার সমৃদ্ধ কর। ব্রহ্মা তো সৃষ্টি করেই খালাস,  গোল বাধে বিষ্ণু আর মহেশ্বরের।  তা,  যা চলছিল  সেটা এখনও  চলছে। আমাদের  স্লোগানের  মতো চলছে, চলবে। এখনও  ইতি উতি  খুঁজলে  কিছু দধীচির  সন্ধান  মেলে। সংখ্যায় অল্প হলেও  এরা আছে এবং এদের  এই স্বার্থহীন কাজের  জন্য  সমস্ত  পৃথিবীটা চলছে। সেবা নিবৃত্ত  হবার  পরেও  তাদের  এই অসামান্য  সেবা যে কত অসহায় লোককে অন্ধের  যষ্টির মতো সঠিক  পথে চালিত  করে তার ইয়ত্ত্বা নেই। কোনরকম  দ্বিধা না করে এরা যে কত লোকের  উপকার  করে সেটা ভাবলেই অবাক হতে হয়। কার স্বামী অসুস্থ  হয়েছেন  বা গত হয়েছেন  এই দধীচিরা কারও  ডাকের অপেক্ষা করেন না, কেমনভাবে বাতাস যেন  তাদের  কানে পৌঁছে দেয় ওখানে তোমার  প্রয়োজন আর সেও ছোটে নির্দ্বিধায়। গুরু রামদাস যখন  শিবাজীকে ভিক্ষার  সন্ধানে বেরোতে নির্দেশ  দেন তখন যথেষ্ট  অন্ধকার। শিবাজী বলেন, " প্রভু, ভিক্ষা, এখন!  এখনও  তো হয়নি প্রভাত।" গুরু রামদাস  বলেন,  " প্রভাত কি রাত্রির  অবসানে ? যখনই  চিত্ত জেগেছে, তখনই  হয়েছে প্রভাত।  চল যাই, ভিক্ষার  সন্ধানে।"  এই দধীচিদের অন্তরেই  গুরুদেবের  অধিষ্ঠান  এবং এরা স্বতঃপ্রণোদিত  হয়েই সমস্ত কিছু উপেক্ষা করে এগিয়ে যান  অন্যের  সাহায্যে। এঁরা বয়োঃকনিষ্ঠ  হলেও  এঁদের  জানাই  শত সহস্র  প্রণাম। 

Saturday, 18 December 2021

বিয়েবাড়ির চাটনি খবর

বিয়েবাড়িতে নানা ঘটনা ঘটে যেগুলো খুবই মজাদার  রসাল হয় এবং বিয়ে মিটে গেলেও তার রেশ  বহুদিন বজায় থাকে। অনেক মজাদার  ঘটনা ঘটলেও সব ঘটনার  সাক্ষী হওয়া কোন লোকের  পক্ষেই সম্ভব  নয়। সেইকারণে এই প্রবন্ধের  সংযোজন হতেই  থাকবে এবং এই প্রবন্ধ  কবে শেষ হবে তা একমাত্র ভগবানই বলতে পারেন। সবার কাছেই  অনুরোধ  থাকল  যে মুখরোচক কিছু খবরের  সন্ধান থাকলে যদি জানান তাহলে একটা  সার্থক গল্প দাঁড়ায়।

তখন মফস্বলে টেবিল  চেয়ারে বসে খাওয়া চালু হয়নি, ক্যাটারার  তো কোন দূরস্থান। বাড়ির শক্ত সামর্থ্য লোকেরাই পরিবেশন করত এবং লোকজন যদি সেরকম না থাকত তবে পাড়ার  লোকজন এসে কার্যোদ্ধার করে দিত। বিয়েবাড়িতে  তখন  মাটিতে বসেই  খাওয়া দাওয়ার রেওয়াজ  ছিল। পরিবেশনকারীরা পাজামা বা প্যান্টের উপর গামছা বা তোয়ালে জড়িয়ে শুরু করে দিত। টিমের  একজন ক্যাপ্টেন  থাকতেন  যিনি বাড়ির  মালিকের  সঙ্গে আলোচনা করে নিতেন  যে কত গেস্ট আছে এবং সেই সঙ্গে দেখে নিতেন যে কত পরিমাণ  খাবার  আছে। সেই বুঝে ঢালাও  পরিবেশন  বা হাত টেনে পরিবেশন করার  নির্দেশ তাঁর  টিমের  লোকজনদের  দিতেন। তবে প্রথম  দুটো ব্যাচ একটু টেনেই  পরিবেশন করা হতো।তারপর মালের স্টক এবং গেস্ট সংখ্যা বুঝে পরিবেশন করা হতো। তখন  আইসক্রিমের  চল আসেনি। দইয়ের হাঁড়ি বা মালসা  এক হাতে নিয়ে আর এক হাতে একটু বড় ধরণের  চামচ দিয়ে খুবই  মোলায়েমভাবে দইএর  উপর চালিয়ে দিতে হতো। সুতরাং, বুঝতে অসুবিধে  হয়না যে সবচেয়ে  অভিজ্ঞ পরিবেশকের হাতে এটা ন্যস্ত  হতো। পাঁচসেরি  একটা দইয়ের মালসা  এক হাতে নিয়ে ঝুঁকে পড়ে দই পরিবেশন করা কত কঠিন  কাজ  ছিল  সেটা অনুমেয়। এরপর  সবাই  চায় দইয়ের মাথা, আর নিজের  মাথা ঠাণ্ডা রেখে পরিবেশন করা এক দুরূহ  ব্যাপার ছিল। আর কিছু লোক  খেতেই  আসত যেন  মনে হয় সাতজন্মের খাওয়া ঐদিন ই খাবে। কিছু লোক  শুধু মাছ, মাংস  আর মিষ্টিই  খাবে যেন  বাড়িতে ঐরকম ই খায়। লাল শাকে বাদাম ভাজা আর তার উপর ছেটানো নারকেল কোঁড়া  দিয়ে শুরু করে নৌকার  মতন  বেগুন ভাজা কলাপাতায় পটাপট  পড়ত। এরপর গরম গরম  লুচিএবং আলুর দম বা এঁচোড়ের  ডালনা বা আলু পটলের তরকারি বা মটরশুঁটির কচুরী এবং আলু ফুলকপির  তরকারি( শীতের সময়) এবং এরপর আসত পোলাও এবং মাছের  কালিয়া এবং তারপর আসত পাঁঠার  মাংস। কম্পিটিশন করে খাবার  লোকজন এইবার  জামার হাতা ভাল করে গুটিয়ে নিয়ে বলতে থাকল বালতিটা  এখানেই  রেখে অন্য  বালতিতে  বাকিদের  সব দিন। আহা রে , চাঁদু,  বাড়িতে কটা পিস মাংস  খাও।  তখন  জিনিস পত্রের দাম  শস্তা হলেও  মাইনেও ছিল কম। সুতরাং, বাড়িতেও দুই তিন টুকরোর  মধ্যেই  সীমিত থাকত। এটাই  স্বাভাবিক। কেউ  অন্য কিছু না খেয়ে শুধু মাছ বা মাংস বা মিষ্টি খাবে এটা ঠিক  নয়। তবে অনেক  লোকেই তখন  খেতে পারত এবং সেই খাওয়াতে  যদি সামঞ্জস্য  থাকে তাহলে ঠিক  আছে। যেমন কেউ  লুচি, পোলাও এবং তার আনুষঙ্গিক  তরকারিপাতি খেয়ে মাছ বা মাংস খায় এবং তারপর আনুপাতিক হারে দই বা মিষ্টি খায় তাহলে আলাদা কথা। অনেকে রস চেপে রসগোল্লা খাওয়ার  সংখ্যা বাড়ায়। পরিবেশনকারিদের মধ্যেও  বেশ রসিক মানুষ থাকত  আর বলত ছানাচ্যাপ্টা দেব? এরকমই  সহকর্মীর  এক বিয়েতে বরযাত্রীদের  একজন আর একজনকে উস্কে দিল।   একজন সহকর্মী রসগোল্লা যতই  দেয় ততই  আলাদা একটা মাটির  ভাঁড়ে রস চিপে ফেলে দেয় এবং ছানাটা মুখের  মধ্যে দেয়।  পরিবেশন যিনি করছেন তিনি মনে মনে খুব  ক্ষুব্ধ  হলেও  কিছু বলতে পারছেন না। হাজার  হলেও  বরযাত্রী বলে কথা। যে সহকর্মীকে উস্কে দিয়েছিল সে একটু দূরে বসেছিল। সে একজন  পরিবেশনকারিকে ডেকে বলল," দাদা, একটা কথা বলব ? কিছু মনে করবেন  না তো?" না, না, না বলুন।  ঐ যে ভদ্রলোক  রসগোল্লা খাচ্ছেন,  উনি বেগুন ভাজা খেতে খুবই  ভালবাসেন  কিন্তু এখন যখন  মিষ্টি দেওয়া হচ্ছে,ও লজ্জ্বার খাতিরে চাইতে  পারছে না। ওকে গোটা কয়েক  বেগুন ভাজা এনে দেবেন? হ্যাঁ, হ্যাঁ, এটা একটা কথা হলো? উনি সঙ্গে সঙ্গে একটা ট্রেতে গোটা আটেক  বড় বেগুন ভাজা এনে দিল  তার পাতে। আরে এ কি করছেন,  এ কি করছেন? না, না, একদম লজ্জ্বা পাবেন না। আমি মিষ্টির  বালতি নিয়ে আসছি। তার রস চেপে রসগোল্লা
খাওয়া মাথায় উঠল। ও তো বুঝতেই পেরেছে  যে এটা কার কম্মো। কিন্তু  এভাবে ওকে নিরস্ত করা ছাড়া আর কোন  রাস্তা ছিলনা।

এবার  আসা যাক  আরও  একটা মজাদার ঘটনায়। এটা ছিল  একটা মোটামুটি ঘ্যামা বিয়ে। বিরাট ব্যবসা ওদের। জুট মিল, কাপড়ের  দোকান ( হোলসেল ও রিটেল),সোনার  দোকান ও পেট্রোল পাম্প।  এছাড়াও  পুকুর,  জমি জমা, এককথায় বিশাল  ব্যাপার।  ওরা অনেক ভাই। সুতরাং বিশাল  ব্যবসা সামলানো কোন বড় ব্যাপার ই নয়। ওদের যিনি বড় ভাই মানে তিনি শুধু বয়সেই বড় নন ওদের  ব্যবসা সাম্রাজ্যের ও মুখ্য মাথা। বিশাল  বাড়ি ওদের, একটা নয়, দু দুটো তিনতলা বাড়ি। মাঝখানে  বিশাল  উঠোন । দুটো বাড়ির ছাদে ম্যারাপ বাঁধা । একটা বাড়ির  ছাদে যখন  খাওয়া দাওয়া হয় তখন  অন্য  বাড়ির  ছাদ পরিষ্কার  করা হয়। এখন আমরা দু কামরা বা তিন কামরার ফ্ল্যাটে থাকা লোক। সুতরাং, বিয়ে বা অন্য  কোন অনুষ্ঠান  করতে গেলে হল বা রিসর্ট ভাড়া করতে হয়। কিন্তু তখন তো ফ্ল্যাট  কালচার  আসেনি, স্টেশনে নেমে রায় ভিলা বা চৌধুরী  ম্যানসন যাব বললে রিক্সাওয়ালারা বসিয়ে নিয়ে মহাসমাদরে নিয়ে এসে বাড়ি পৌঁছে দিত। অনেক সময়ই তারা ভাড়া চাইতেও  লজ্জা পেত। ভাড়া জিজ্ঞেস  করলে তারা বলত যা হয় দেবেন কারণ ভাড়া চাইলে যদি বাবুদের সম্মান  নষ্ট হয়ে যায়। বাবুদের বাড়ির  অতিথি মানে তাদের ও যেন অতিথি। আর্থিক  ও সামাজিক  বৈষম্য  থাকলেও কেমন যেন  একটা সৌহার্দ্য  ও প্রীতির সম্পর্ক  ছিল যা কালক্রমে আজ নিশ্চিহ্ন। যাই হোক,  ফিরে আসা যাক  সেই বিয়েবাড়ির কথায়। এখানে সব কিছুই  ঢালাও। এই বিয়ে বাড়িতে খাওয়ার  প্রতিযোগিতা হতো ।শহরের  বিভিন্ন  ক্লাবকে তাঁরা নিমন্ত্রণ  করতেন এবং সেরা পেটুক মশাইকে তাঁরা পুরস্কার  দিতেন। বিভিন্ন  ক্লাবের  বিশাল দেহী  পালোয়ান তো আসতেনই,  সঙ্গে কিছু কুকুর পেটওয়ালা ডিগডিগে মার্কা লোক ও আসত এবং প্রায়শই  দেখা যেত এই লোকগুলোই  সিংহভাগ  পুরস্কার  নিয়ে যেত। আরও  একটা জিনিস  ছিল যেটা  হচ্ছে অতিথিপরায়ণাতা। খাওয়ার  সময় তদারকি ছাড়াও  খাবার  শেষে বেরোনোর  সময় জিজ্ঞেস করতেন  পেট ভরে ঠিকঠাক  করে খেয়েছে তো? কোন  ত্রুটি হয়নি তো? ট্যাডপোল দা বড় সাইজের  চল্লিশটা লুচির  সঙ্গে প্রয়োজনীয় তরকারি বা মাছ, মাংসের সঙ্গে বালতিখানেক পোলাও  ও বড় এক হাঁড়ি দইয়ের সঙ্গে পরিমাণ  মতো রসস্থ বোঁদে ও বড় সাইজের  রসগোল্লা ও সন্দেশ  মিলিয়ে খান পঞ্চাশেক  মিষ্টি খেয়ে বড় একটা ঢেকুর  তুলে ট্যাডপোল দা খাওয়া সমাপ্ত করতেন।  এ হেন  বৃকোদরের প্রথম পুরস্কার  বাঁধা। দ্বিতীয় বা তৃতীয় বা সান্ত্বনা পুরস্কারগুলো কুকুরপেটওয়ালা হরি বা ভজাদের  কপালে জুটতো। 
এবার  আসা যাক, আরও  একটা আধুনিক বনেদী বাড়ির  বিয়েতে যেখানে বনেদীয়ানা এবং অতিথিপরায়ণতার সংমিশ্রণ সুন্দর ভাবে প্রতীয়মান।  কলকাতা থেকে জনা তিরিশেক এবং বম্বে থেকেও সম সংখ্যক বরযাত্রীদের দিল্লী যাবার  ব্যবস্থা হয়েছে প্লেনে এবং সেখান থেকে একটু দূরে ফরিদাবাদের  সূরযকুণ্ডে  তাজ হোটেলে থাকার ব্যবস্থা হয়েছে। কলকাতা থেকে দিল্লির যাত্রায় সাতজনের  জন্য  হুইলচেয়ারের ব্যবস্থা হয়েছে।এরমধ্যে চারজনের  অপারেশন  বা অসুস্থতা এবং বাকি তিনজন অশীতিপর  বৃদ্ধা। কিন্তু এমনই ব্যাপার  যে এই বিয়েতে যেতেই  হবে। কিন্তু সবচেয়ে আশ্চর্যের  কথা এঁদের  মধ্যে যিনি সবচেয়ে বেশী বয়স্কা তিনিই সবচেয়ে বেশী ফিট। তাঁর সম্বন্ধে পরে কিছু বলতেই  হবে কারণ তিনি অনন্যা এবং  তাঁর  বয়স তিরানব্বই। তিনি পাত্রের  ঠাকুমা। যাই  হোক শীতের  শুরুতেও  দিল্লী যথেষ্টই  ঠাণ্ডা এবং শীতকাতুরে  বাঙালির তার জন্য  প্রস্তুতি সহজেই অনুমেয়। যাই হোক, সন্ধ্যে নাগাদ  দিল্লী বিমানবন্দরে পৌঁছে, মালপত্র  নিয়ে অনেকগুলো গাড়ি এবং একখানা বাসে সবাই  তাজ হোটেলে এসে পৌঁছাল। গোলাপ দিয়ে সম্বর্ধনার  পর মাটির  ভাঁড়ে গরম চায়ের  অভ্যর্থনা এক অসাধারণ অনুভূতি। খানিকটা গলা গরম করে যাওয়া হ'ল নিজের নিজের ঘরে এবং কিছুটা আনপ্যাক করতে না করতেই  সমন এসে গেছে ডিনারের। আক্রমণ  শুরু হ'ল থরে থরে সাজানো বিভিন্ন  সামগ্রীর।  ব্যূফে সিস্টেমে যার যা প্রাণে চায়  বাধানিষেধহীন হয়ে তাই দিয়ে পেট ভরাও।  কেউ  দেখতেও যাচ্ছেনা, বাধাও দিচ্ছেনা। হঠাৎই  মনে হ'ল ট্যাডপোল দা বেঁচে থাকলে কি যৎপরোনাস্তি আনন্দিতই  না হতেন। টানা ঘুমের  পরে সকালে উঠে নিজেই নিজের  চা বানিয়ে খেয়ে নেওয়া, সঙ্গে থাকা বিভিন্ন  ধরণের  স্ন্যাকসের সহযোগে।  সকাল বেলায় ব্রেকফাস্ট  ঐ হোটেলের ই একটা রেস্তোরাঁয়।  এরই মধ্যে একজনের জুতোর  সোল গেছে খুলে। সে বেচারা খোঁড়াতে খোঁড়াতে এসেছে রিসেপশনে  জিজ্ঞেস  করতে কাছাকাছি কোন জুতোর দোকান  বা রিপেয়ার করার কোন জায়গা আছে কিনা । এদিকে পাত্রীর দাদার  নজরে সেটা পড়ে গেছে। সঙ্গে সঙ্গে বলে দিল এক অডি গাড়ির  ড্রাইভারকে। কি আর করে বেচারা। আরও  একজনকে সঙ্গে  নিয়ে চলল মুচির খোঁজে অডি গাড়িতে চড়ে।  মুচি যেখানে বসে তার থেকে অনেক  দূরে গাড়ি রেখে খোঁড়াতে খোঁড়াতে পকেট  থেকে খুলে যাওয়া সোলটা বের করে বলল ইসকো বানানা পড়েগা। ঠিক হায় সাব অভি পেস্টিং কর দেতে । নহী নহী ভাই আপ পেস্টিং করকে সিলাই ভি কর দিজিয়ে। তো সাব, উসমে তো বহুত  টাইম লগেগা। কুছ পরোয়া নেহী।   এর পর সঙ্গীতের  জন্য রিহার্সাল  শুরু। নাচগানের মাধ্যমে দুই পরিবারের  আরও  কাছাকাছি  আসা এই সঙ্গীতের উদ্দেশ্য। ঐদিন  সকাল  বেলায় বম্বে থেকে একটা টিম এবং কলকাতা থেকে আরও একটা টিম চলে এল সঙ্গীত সন্ধ্যাকে  আরও  মধুময় করতে। শুরু হ'ল অমিতাভ  বচ্চনের  গলায় গণেশ বন্দনা দিয়ে আর তারপরেই শুরু হ'ল নৃত্য গীতের সুষমামণ্ডিত পরিবেশন। ঐ অল্প সময়ের মধ্যেই  কি দারুণ  রিহার্সাল, দেখার মতন। যাই  হোক, রাতের  ডিনারের  পর গল্প, গল্প আর গল্প।
পরদিন  ঘুম ভাঙতে একটু দেরী হ'ল। সকাল  বেলায় নান্দীমুখ  ও গায়ে হলুদ। দুটো পাশাপাশি স্যুইটে পাত্রপক্ষ ও পাত্রীপক্ষের  অবস্থান।  সুতরাং গায়ে হলুদের  তত্ত্ব নিয়ে যাওয়া আসাতে  কোনসময় ব্যয় হ'লনা। সন্ধ্যে বেলায় বিয়ে, পাত্র এল করতে বিয়ে রোলস রয়েস  নিয়ে।  বিয়ের  মণ্ডপ খোলা জায়গায়। ঠাণ্ডা হাওয়ার  কামড়ে বসে থাকা যায়না কিন্তু চারদিকে হিটার  জ্বালিয়ে দেওয়ায় খুবই  মনোরম পরিবেশ তৈরী হয়েছিল আর কবিগুরুর  গান আগুনের  পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে মনে পড়ে যাচ্ছিল। এদিকে প্রশস্ত  হলে খাওয়া দাওয়া চলছে। বিভিন্ন  অতিথিরা আসছেন,  যাচ্ছেন  ও তাঁদের পছন্দ মতন খাওয়া দাওয়া করছেন  আর ঐদিকে অনুরাগ রাস্তোগীর ব্যাণ্ডের অপূর্ব  সুর একের পর এক মূর্ছনা সৃষ্টি করে চলেছে। এক অপূর্ব  মনোরম পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। লাঠি হাতে এক স্যুট পরিহিত ভদ্রলোক রাস্তোগীর গানের ভিডিও  করছিলেন এবং আলাপ করলেন।  বাঁশি, স্যাক্সোফোন, বেহালা ও কীবোর্ডের সন্তুলন মিশ্রণে  একের পর এক পুরনো  দিনের গান বেজে উঠছে আর ছেলে, বুড়ো, মেয়ে, বুড়িদের শরীর  হিন্দোলিত হচ্ছে। উপস্থিত  জনগণের  মধ্যে সবচেয়ে বর্ষীয়ান  ভদ্রমহিলার  শরীরের আন্দোলন  দেখে লাঠি হাতে হাঁটা ভদ্রলোক ঐ ভদ্রমহিলার  হাত ধরে নাচার  জন্য  অনুরোধ  করলেন।  ঐ বর্ষীয়সী  ভদ্রমহিলা তাঁর অনুরোধ  উপেক্ষা  করতে পারলেন  না। তিনিও পুরোদস্তুর নাচে অংশগ্রহণ করলেন  এবং রাস্তোগীরাও  অত্যন্ত  উদ্বুদ্ধ  হয়ে উঠলেন এবং সঙ্গে সঙ্গে আরও  অনেক  বর্ষীয়ান  ভদ্রলোক ও তাঁর সঙ্গে সঙ্গে তাল মেলালেন। কি অসাধারণ  প্রাপ্তি বর্ণনা করা যায়না। যাই হোক,  পরদিন  সকালে ব্রেকফাস্ট  করে ফিরে আসার  পালা। চারদিনের লোকজনের  ব্যবহার এতটাই  মধুর  ছিল  যে এটাকে একটা তেল খাওয়া  মেশিনের  সঙ্গে তুলনা করা যায়। পার্থক্য  এইটাই  যে মেশিনের  চলন প্রাণহীন  কিন্তু এখানে প্রত্যেকটি লোকের ব্যবহার  হৃদয়মিশ্রিত।

Thursday, 16 December 2021

সময়

সে এক বড্ড দামাল ছেলে, নামটা ছিল  সময়
ধরতে তাকে চেষ্টা সবাই  করে কিন্তু কেবলই হাত ফসকে সে পালায়
পৃথিবীর আলো যখন  চোখে পড়ে খেলতে থাকে আপনমনে নিজ মাতৃক্রোড়ে 
কেমনভাবে যায় যে কেটে বেলা,এবার  স্কুলে ভর্তি হবার  পালা
বন্ধু অনেক হ'ল যে ইস্কুলে ,কেউ বা তারা থাকল আমার  সাথে
কেউ বা গেল মেডিক্যালে কেউ বা অন্য পথে
আগের দিনে ছিল  পেশা ইঞ্জিনিয়ার বা ডাক্তারি
কেউ  বা হতো উকিল নয়তো কেউ বা প্রফেসারি
এখন তো ভাই  হরেক পেশা কেউ হয় এম বি এ
কম্পিউটারের অনেক  শাখা কেউ বা এম সি এ
ভিন্ন  পেশায় বন্ধু জোটে ভিন্ন তাদের মত
কথায় কথায় মান অভিমান পাল্টায় তাদের পথ
মেলেনা সেই  স্কুলের দিনের  বন্ধু নির্ভেজাল 
মান অভিমান ভুলে না যাওয়ায় কেটে যায় সেই তাল
চুলে ধরে পাক নড়ে যায় দাঁত শেষের আমন্ত্রণ 
বুঝতেই পারি দিনের শেষে সন্ধ্যার  আগমন
নিয়মের ফেরে সন্ধ্যার পরে রাত্রি প্রতীক্ষায়
ছেড়ে যেতে হবে এই ধরাধাম নূতন যাত্রায়
তবুও  চেষ্টা করে যাই শুধু সময়কে  ধরিবার
সময় শুধুই  হাসিয়া বলে আমি দুর্নিবার।