প্রতিবার বাদাম গাছের বাসিন্দারা যখন সেগুনগাছে আশ্রয় নিতে চায় তখনও যেমন ঝগড়া আবার তার কিছুদিন পরে সেগুন গাছের বাসিন্দারা বাদাম গাছে আসতে চাইলে তখনও হয় ঝগড়া। আমরা যারা ব্যালকনিতে সময় কাটাই, দুই দল পাখিদের ঝগড়া দেখে ভাবি কেন একটু বোঝাপড়া নেই দুইদল পাখিদের মধ্যে কিন্তু একবারও এটা ভেবে দেখিনা এই স্বভাব তো আমাদের ও , আমরাও কাউকে সহ্য করতে পারিনা। এই অন্তর্কলহ শুধু মানুষ নয় পশুপাখি সবার মধ্যেই বিদ্যমান।
Wednesday, 22 May 2024
পরিবর্তন
ব্যালকনিতে বসে ঋতু পরিবর্তন দেখা একটা দারুণ অনুভূতি। কয়েকদিন আগে গ্রীষ্মের দাবদাহে সমস্ত পশুপাখি ও তাদের আবাসস্থল গাছগুলো যেন ধুঁকছিল। যদিও পার্কের মধ্যে থাকা বাদাম গাছটা তাদের পুরোন পাতাগুলো ঝেড়ে ফেলে নতুন সবুজ পাতায় নিজেদের সাজিয়ে নিয়েছিল কিন্তু সেগুন গাছের বৃদ্ধ পাতাগুলো যেন গাছের মায়া ছাড়তেই পারছে না তখনও যুদ্ধ করে চলেছে ঐ মারাত্মক দাবদাহের সঙ্গে। কিন্তু কতক্ষণ আর যুঝবে? স্পার্টার মুষ্টিমেয় সৈনিক যেমন বিশাল পারস্য বাহিনীকে বেশিক্ষণ আটকে রাখতে পারেনি এই বৃদ্ধ ও ন্যূব্জ পাতাগুলোও কালের নিয়মে টুপটাপ আওয়াজ করে ঝরে পড়তে লাগল আর কিছুদিনের মধ্যেই ঐ বড় গাছটার মাথা যেন ন্যাড়া হয়ে গেল। এদিকে বাদাম গাছের ন্যাড়া মাথায় চুল(পাতা) গজিয়ে বেশ ঝাঁকড়া হয়েছে, কচি পাতাগুলো তাদের কৈশোর ছাড়িয়ে যৌবনে পা দিতে না দিতেই বেশ হৃষ্টপুষ্ট হয়েছে। কিন্তু রোজ সন্ধে হতে না হতেই কিচির মিচির শব্দে পাখিদের ঝগড়া শোনা যায়। মুশকিল হলো যাদের আশ্রয়স্থল ছিল সেগুন গাছ, পাতা ঝরে পড়ায় তারা শুধু সরু ডালে কি করে থাকবে, সারাদিন এখানে সেখানে উড়ে উড়ে খাবারের সন্ধানে শরীর ও মন উভয়েই ক্লান্ত। এরপর তো একটু ভাল ঘুমের ভীষণ প্রয়োজন, তাই তারা উড়ে আসে বাদাম গাছের ঘন পাতায় ঢাকা ডালে একটু বিশ্রামের জন্য। কিন্তু বাদাম গাছের স্থায়ী বাসিন্দা যেসব পাখি তাদের প্রতিবাদ আছে এবং সেই কারণেই কিচির মিচির করে নিত্যদিন ঝগড়া। এই ঝগড়া কিন্তু বেশিদিন স্থায়ী হয় না। দেখি সেগুন গাছের সমস্ত ডালে ছোট ছোট গুটির মতন কিসব যেন। ধীরে ধীরে রোদের তেজ স্তিমিত হয়ে গেলে গুটিগুলো যেন সভয়ে চোখ মেলতে শুরু করে। আস্তে আস্তে গজায় ছোট্ট ছোট্ট পাতা আর বৃষ্টির একটু আলতো চাবুকেই সচকিত হয়ে ওঠে সেই নবীন পাতাগুলো, মেলে ধরতে শুরু করে নিজেদের। ন্যাড়া মাথায় প্রথম যখন চুল গজাতে শুরু করে এবং তার পর যখন সেটা বাড়তে বাড়তে সমস্ত মাথাটাকে ঢেকে ফেলে অনেকটা সেইরকম। কচি কচি হলদে পাতাগুলো বৃষ্টির পরশে ধীরে ধীরে সবুজ থেকে ঘন সবুজ হতে শুরু করেছে আর এই গাছের বাসিন্দারাও নিজভূমে ফিরে আসছে আর তাদের কলহের কিচির মিচির স্তিমিত হয়ে আসছে।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment