Saturday, 25 May 2024

ফিরে যাওয়ার আগে

জীবনের  শেষ সীমানায় পৌঁছে হিসেব নিকেশ করতে বসে রাধুবাবু দেখেন সবসময়ই  তিনি জিতেই এসেছেন এবং লাভে লাভে মালামাল  তিনি এবং দেওয়ার ঘর প্রায় শূন্য।  জিততেই হবে সে যে ভাবেই হোক না কেন, ছলে, বলে বা কৌশলে। ভাদুড়িদার কাছে জানলাম যে এই গোত্রের মানুষ রাজসিক চালেই থাকেন এবং ভগবান  তাঁদের  মনোবাঞ্ছাও পূর্ণ করেন এবং দেখেন এই প্রাচুর্যের মধ্যেও বান্দা তাঁকে স্মরণ করছে কি না। বেশিরভাগ লোকই  ক্ষমতায় মদমত্ত হয়ে তাঁকে স্মরণ করতেই ভুলে যান। কিন্তু কিছু মানুষ আছেন যাঁদের হৃদয়ে তিনি অধিষ্ঠিত এবং তাঁরা সবসময়ই ভাল কাজ করতে থাকেন।  ভাল কাজ মানেই মন্দিরে গিয়ে এক অত্যন্ত মূল্যবান অলঙ্কারে ভূষিত  করলাম , এটা নয়। নিজের  সাধ্যানুযায়ী কিছু গরীব অভুক্ত মানুষকে খাওয়ানো এর থেকে অনেক  ভাল  কাজ। এই সহজ সরল কথাটি স্বামী বিবেকানন্দ অনেক দিন আগেই  বলে গেছেন। আমরা সেটা জেনেও প্রয়োজন মতো ভুলে যাই। 
ইসরাইলে দুটো হ্রদ আছে যাদের একটার নাম মৃত সাগর এবং অপরটি গ্যালিলি সাগর। মৃত সাগরে জীবনের কোন  চিহ্ন  নেই কারণ এর জলে লবণের পরিমাণ। অপরদিকে গ্যালিলি সাগরে জীবনের  প্রাচুর্য। কারণ অনুসন্ধান করলে দেখা যায় যে জর্ডন নদীর জল এর মধ্যে প্রবাহিত হয়ে সাগরে গিয়ে মেশে কিন্তু মৃত সাগর  সমুদ্রতলের অনেক নীচে হওয়ায় জর্ডন নদীর  জল ঐখানেই  আবদ্ধ হয়ে যায় এবং প্রতিনিয়ত জল বাষ্পীভূত হওয়ার কারণে  জলে দ্রবীভূত লবণ ঐখানেই পড়ে থাকে এবং লবণ মাত্রাতিরিক্ত হবার জন্য জীবনের কোন  চিহ্ন সেখানে দেখা যায়না। মানুষের জীবনেও এই একই ঘটনা। আমরা যা কিছু শিখছি বা পাচ্ছি তা যদি অন্যের মধ্যে বিতরণ  করা না যায় তাহলে সেই মৃত সাগরের অবস্থা হবে। জীবন সায়াহ্নে এসে এই কঠিন  সত্যের উপলব্ধি মানুষকে কিছু করার  অনুপ্রেরণা যোগায়। 
প্রত্যেক মানুষের ই কিছু না কিছু দেবার  আছে এই সমাজকে এবং এই নশ্বর দেহ বিলীন  হবার আগে সেটা করলে সমাজ পরিপুষ্ট  হবে অন্যথা অধীত জ্ঞান জীবনের  সমাপ্তির সঙ্গে বিলুপ্ত হয়ে যাবে। রাধু বাবু এখনভেবে  পাচ্ছেন  না যে তাঁর এই বিশাল  সম্পদ নিয়ে কি করবেন। স্ত্রী অনেকদিন আগেই ছেড়ে চলে গেছেন,  কোন সন্তানাদিও  নেই, নিজের  জন্য  সামান্য  কিছু রেখে  সমস্ত সম্পত্তি রামকৃষ্ণ মিশনকে দান করে ভার মুক্ত হলেন।

No comments:

Post a Comment